পাকিস্তানে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্তির হার বেড়ে ৫৭ শতাংশ, শিক্ষার হারেও অগ্রগতি

পাকিস্তানের শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটিতে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীর হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ শতাংশে, যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ছিল ৫১ শতাংশ। এই অগ্রগতি শিক্ষা প্রসারে পাকিস্তান সরকারের চলমান প্রচেষ্টারই প্রতিফলন।

প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্তির হার নারী ও পুরুষ উভয় ক্ষেত্রেই বৃদ্ধি পেয়েছে। পুরুষ শিক্ষার্থীর হার ৬১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে এবং নারী শিক্ষার্থীর হার ৪২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। শহরাঞ্চল ও গ্রামাঞ্চল—উভয় ক্ষেত্রেই এই উন্নয়নের চিত্র দৃশ্যমান। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে নারী শিক্ষার হার ৩২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৮ শতাংশে উন্নীত হওয়া অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।

প্রাদেশিক পর্যায়ে পর্যালোচনায় দেখা যায়, পাঞ্জাবে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর হার ৫৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬২ শতাংশে পৌঁছেছে। সিন্ধু ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে এই হার যথাক্রমে ৫২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে গত কয়েক বছরের তুলনায় বেলুচিস্তান প্রদেশে সবচেয়ে বেশি উন্নতি পরিলক্ষিত হয়েছে, যেখানে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার হার ৩১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪২ শতাংশ হয়েছে।

শিক্ষার হার বৃদ্ধির পাশাপাশি স্কুলে উপস্থিতি এবং সামগ্রিক সাক্ষরতার হারও ঊর্ধ্বমুখী। ১০ বছর বা তার বেশি বয়সী জনসংখ্যার মধ্যে স্কুলে যাওয়ার প্রবণতা ৬১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। পাকিস্তানের জাতীয় পর্যায়ে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৬৩ শতাংশ, যেখানে পুরুষ সাক্ষরতার হার ৭৩ শতাংশ এবং নারী সাক্ষরতার হার ৫৪ শতাংশ।

স্কুলের বাইরে থাকা শিশুদের হার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রেও পাকিস্তান উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। ২০২৩ সালে যেখানে ৩৮ শতাংশ শিশু শিক্ষার আওতার বাইরে ছিল, সেখানে ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী তা ২৮ শতাংশে নেমে এসেছে। দেশটির প্রতিটি প্রদেশ ও অঞ্চলেই এই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে, যা পাকিস্তানের সামগ্রিক শিক্ষা কাঠামোর সুদৃঢ় অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।

তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ

০%
০%
০%
০%