হাতির অভয়ারণ্য তৈরি ও পর্যটনকে উন্নত করলে অবৈধ বন দখল বন্ধ হবে

গারো পাহাড়ে হাতির অভয়ারণ্য গড়ে তোলা এবং পর্যটন খাতের টেকসই উন্নয়ন করা সম্ভব হলে দীর্ঘদিনের হাতি-মানুষের সংঘাত চিরতরে বন্ধ হবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে পাহাড়ের অবৈধ জবরদখলও রোধ করা যাবে বলে জানান তিনি। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্কে মানুষ ও হাতি দ্বন্দ্ব নিরসনে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি), গণমাধ্যমকর্মী এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় হাতি চলাচলের নির্ধারিত ছয়টি করিডোর সচল ও নিরাপদ করতে ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, আগামী ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমান সরকার পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অত্যন্ত আন্তরিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে অত্যন্ত দূরদর্শী এবং আমাদের চেয়েও বেশি সংবেদনশীল। এরই ধারাবাহিকতায় শেরপুরের গারো পাহাড়ে হাতির স্থায়ী অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও বন বিভাগের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে মন্ত্রী গারো পাহাড়ে হাতি চলাচলের ঐতিহ্যবাহী করিডোরগুলো সরজমিন পরিদর্শন করেন এবং ঝিনাইগাতী উপজেলায় আরেকটি মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। সফরকালে তিনি হাতির আক্রমণে হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের মাঝে পুনর্বাসন সহায়তার অংশ হিসেবে মোট ১৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করেন। পাশাপাশি, বন্যহাতির দল লোকালয়ে প্রবেশ রোধে মাঠপর্যায়ে তৎপর ৩২টি এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের (ইআরটি) সদস্যদের মাঝে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জগলাইটসহ হাতি তাড়ানোর বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জাম হস্তান্তর করেন।

শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী, প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী, পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ ঢাকা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী, ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম, শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল এবং ইআরটি সদস্য লরেন্স দ্রংসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এ সময় জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, ইআরটির সদস্য, উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক পাহাড়ি জনপদের সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

০%
০%
০%
০%