নবম জাতীয় পে-স্কেল চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শুরু

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের প্রক্রিয়া ও এর খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যেই এই সভা ডাকা হয়। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের একটি কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
বৈঠকের আগে সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান, জাতীয় বাজেটে এর প্রভাব এবং সরকারের ওপর সম্ভাব্য আর্থিক চাপের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। সামগ্রিক অর্থনীতি ও বাজেটের ওপর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে কমিশন প্রস্তাবিত শতভাগ বেতন বৃদ্ধির পরিবর্তে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধায় পরিবর্তনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী অক্টোবর থেকে নতুন কাঠামোয় বেতন প্রদানের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। তবে নতুন পে-স্কেল চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য করার পরিকল্পনা থাকায়, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের বকেয়া বেতন পরবর্তীতে সমন্বয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। পে-স্কেলের মূল বিষয়গুলো প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। ভেটিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকেও নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে গৃহীত এই উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নে গত কয়েক দিনে একাধিক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। এখন মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে পুরো প্রস্তাবনাটি।
