সংস্কারের অভাবে মরণফাঁদে পরিণত তারাগঞ্জ-বুড়িরহাট সড়ক চরম দুর্ভোগে ১৫ গ্রামের মানুষ

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার বুড়িরহাট সড়কটি দীর্ঘদিনের অযত্ন ও অবহেলায় বর্তমানে এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির সাড়ে চার কিলোমিটার অংশজুড়ে এখন খানাখন্দের ছড়াছড়ি। পিচ ও কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হওয়া বড় বড় গর্তে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় পথচারী ও যানবাহনের জন্য সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র মতে, এই সড়কটি ব্যবহার করে বুড়িরহাট, মাছুয়াপাড়া, মাঝাপাড়া, ভাটারপাড়, ফরিদাবাদ, বৈদ্যনাথপুর, বিষ্ণুপুর, মিড্ডারমাল্লি, তেলিপাড়া, অনন্তপুর, ফুলবাড়ি, বড়বাড়ি, মিস্ত্রিপাড়া, হাজিপাড়া, পলাশবাড়ী, খিয়ারচড়া, খানবাড়ির ডাঙ্গা ও ডাঙ্গাপাড়াসহ অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষ উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন। কৃষিপণ্য পরিবহন ও নিয়মিত যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই পথটি বর্তমানে চরম জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো দায় হয়ে পড়েছে। ডাঙ্গা বাজারের ব্যবসায়ী রুবেল ইসলাম জানান, ভাঙাচোরা পথে ভ্যান বা অটোরিকশায় যাতায়াত করতে গিয়ে যাত্রীরা শারীরিক ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। এদিকে, তারাগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেনের ভাষ্যমতে, সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হওয়ায় শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারছে না, এমনকি পায়ে হেঁটে চলাচল করাও দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।
ইজিবাইক চালক গোবিন্দ রায়ের মতে, ভাঙা রাস্তায় নিয়মিত যাতায়াতের ফলে যানবাহনের যন্ত্রাংশ অকেজো হয়ে পড়ছে এবং বর্ষাকালে গর্তে পানি জমে থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা মোতালেব হোসেন ও আকিব খানের দাবি, রাতের বেলায় এই সড়কে চলাচল করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। রাস্তার সংস্কারহীন অবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী নাফিউর রহমান জানান, সড়কটি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এরই মধ্যে অবহিত করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শুরু করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। তবে জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত রাস্তাটি মেরামত করে যাতায়াত স্বাভাবিক করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
