Advertisement

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে আইরিন খানের দায়িত্ব গ্রহণ

জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন প্রখ্যাত মানবাধিকারকর্মী আইরিন জুবাইদা খান। গত শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে পরিচয়পত্র পেশের মাধ্যমে তিনি তাঁর নতুন এই কূটনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করেন। স্থায়ী মিশনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে গত ৮ জুলাই সরকার তাঁকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় এ গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ প্রদান করে।

নতুন এই দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে আইরিন খান বিদায়ী স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইরিন খান বর্তমানে জেনেভার গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ কর্মজীবনে মানবাধিকার, লিঙ্গসমতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইরিন খান অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছেন। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়াও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থায় ২১ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর, যার মধ্যে ভারতে সংস্থাটির মিশন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন ছিল অন্যতম।

বিজ্ঞাপন

২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক উন্নয়ন আইন সংস্থার নেতৃত্ব দেওয়া আইরিন খান যুক্তরাজ্যের সালফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া নিউইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগে ভিজিটিং অধ্যাপক ও দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার পরামর্শক সম্পাদক হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন। ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় ও হার্ভার্ড ল স্কুলে শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করা এই মানবাধিকারকর্মী ২০০৬ সালে সিডনি শান্তি পুরস্কারসহ দেশি-বিদেশি নানা সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

২০২০ সালের আগস্ট মাস থেকে আইরিন খান জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সুরক্ষাবিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ছিলেন এই পদে নিয়োগ পাওয়া প্রথম নারী। বিশ্বব্যাংকের লিঙ্গ বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ, ইউএনএইডসের এইচআইভি প্রতিরোধ ও মানবাধিকার বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের প্যানেল এবং জাতিসংঘের গ্লোবাল কমপ্যাক্টের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবেও তিনি বৈশ্বিক পর্যায়ে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।

সম্পর্কিত- জাতিসংঘ
0%
0%
0%
0%