সংস্কারের ছয় মাসেই বেহাল মোংলা বন্দর সড়ক, কাজের মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের প্রধান প্রবেশ সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সংস্কারের মাত্র ছয় মাসের মাথায় ফের বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন হওয়া সংস্কারকাজ টেকসই না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে পিচ উঠে যাওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই পথটি।
মোংলা থেকে দিগরাজ পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের বন্দর এলাকা থেকে নৌবাহিনী স্কুল পর্যন্ত অংশটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা নিয়মিত বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ভারী পণ্যবাহী ট্রাকসহ অসংখ্য ছোট-বড় যানবাহন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত যন্ত্রাংশ নষ্টসহ নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
মেসার্স খন্দকার সাইন আহম্মেদ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া এই সংস্কারকাজের মান ও তদারকি নিয়ে এখন জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর লোক দেখানো সংস্কার করা হলেও স্থায়ী কোনো সুরাহা হচ্ছে না। কাজের গুণগত মান যাচাই এবং সঠিক তদারকির অভাবকেই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন ভূক্তভোগীরা।
সড়কটির বর্তমান দুরবস্থা ও সংস্কার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী শেখ শওকত আলীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো লিখিত বক্তব্য প্রদান করেননি। তবে মুঠোফোনে তিনি জানান, বর্তমানে সড়কটিতে রি-সলিংয়ের কাজ চলছে এবং ভবিষ্যতে সড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
বারবার সরকারি অর্থ ব্যয় করে সাময়িক সংস্কার না করে বরং সড়কের ক্ষতির প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে কাজের গাফিলতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
