অ্যাপের মাধ্যমে ঋণের প্রলোভন: ডিজিটাল প্রতারণায় জড়ালে বড় বিপদের সতর্কবার্তা বাংলাদেশ ব্যাংকের

স্মার্টফোনের পর্দায় ভেসে আসা ‘এক ক্লিকেই ঋণ’ বা ‘বিনা জামানতে তাৎক্ষণিক লোন’-এর মতো লোভনীয় বিজ্ঞাপনের আড়ালে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ডিজিটাল প্রতারক চক্র। অনুমোদনহীন বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এই চক্রটি সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাদের ঠেলে দিচ্ছে চরম আর্থিক সংকটের দিকে। প্রযুক্তির এমন অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দেশবাসীকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, বাংলাদেশে ঋণ প্রদান একটি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত আর্থিক কার্যক্রম। বাংলাদেশ ব্যাংকের যথাযথ অনুমোদন এবং প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধানের তোয়াক্কা না করে পরিচালিত এসব ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ অবৈধ। এ ধরনের অননুমোদিত অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে লেনদেন করলে গ্রাহকদের চরম ভোগান্তির পাশাপাশি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী আইনি জটিলতার মুখে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, কেওয়নজা লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, ক্যাশহোরো, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈর্য লোন, ফিন ডট ডু, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও-এর মতো অসংখ্য অ্যাপ বর্তমানে প্রতারণার জাল বিস্তার করে রেখেছে। এসব প্ল্যাটফর্ম থেকে যেকোনো প্রকার ঋণ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতারণা থেকে সুরক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কোনো অবস্থাতেই অপরিচিত অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কিংবা স্মার্টফোনের সংবেদনশীল তথ্য প্রদান না করা। এছাড়া ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে অগ্রিম অর্থ, প্রসেসিং ফি বা নিবন্ধন ফি চাওয়া হলে সেটিকে প্রতারণা হিসেবে গণ্য করে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
যদি কোনো ব্যক্তি এ ধরনের অননুমোদিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রতারিত হন, তবে তাকে দ্রুত বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) ওয়েবসাইটে গিয়ে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে। এছাড়া মতিঝিলে অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বিএফআইইউ পরিচালকের দপ্তরে সরাসরি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর দিকনির্দেশনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
