Advertisement

কুতুবদিয়ায় লবণ শ্রমিকদের হাড়ভাঙা খাটুনি তবুও মিলছে না ন্যায্য মজুরি

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেও ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন লবণ শ্রমিকরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভারী বোঝা বহন করেও দিনশেষে নামমাত্র পারিশ্রমিকে কাটছে তাদের জীবন। লবণের বাজারদর ঊর্ধ্বমুখী হলেও শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান ও ন্যায্য অধিকার দীর্ঘ সময় ধরে উপেক্ষিত রয়ে গেছে।

সতরুদ্দিন পেয়ারা কাটা নতুন জেটি ঘাটের শ্রমিক রুবেল, ছরোয়ার, আরফাত ও ইয়াসিন জানান, এখানে প্রায় ৫০ জন শ্রমিক প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত টানা কাজ করেন। প্রতি বস্তা লবণ সড়ক থেকে ট্রলারে তুলে দেওয়ার বিপরীতে তারা মাত্র সাড়ে সাত টাকা মজুরি পান। বস্তার গায়ে ৪০ কেজির কথা লেখা থাকলেও প্রতিটি বস্তায় প্রায় ৫০ কেজি লবণ থাকে। এভাবে দিনভর ৮০ থেকে ৯০ বস্তা লবণ বহন করে তাদের আয় হয় মাত্র ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা। গত চার বছর ধরে একই মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

শ্রমিক মানিকের ভাষ্যমতে, সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে যে আয় হয়, তার অর্ধেকই ব্যয় হয়ে যায় খাবার ও চা-নাশতার পেছনে। মাসে গড়ে ২০ দিন কাজ পাওয়া যায়, তবে ঝড়-বৃষ্টির সময় তা পুরোপুরি বন্ধ থাকে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে তারা বস্তাপ্রতি মজুরি অন্তত ১০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। দরবার ঘাট ও ধুরুং ঘাটের চিত্রও প্রায় একই। সেখানে শ্রমিকরা দিনে সর্বোচ্চ ১০০ মণ লবণ বহন করে ৭০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন, কিন্তু বর্ষা মৌসুমে কাজ না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হয় তাদের।

লবণ ব্যবসায়ীরা জানান, মাঠ পর্যায়ে লবণের দাম বাড়লেও মিল মালিকরা বাড়তি দামে লবণ কিনতে আগ্রহী নন। ফলে অনেক ব্যবসায়ী লবণ পরিবহনে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে শ্রমিকের মজুরির ওপর। মলমচর স্লুইস গেট ঘাটের ব্যবসায়ী ইব্রাহীম জানান, বর্তমানে প্রতি মণ লবণের দাম ৪৬০ টাকা, যার মধ্যে শ্রমিক ও পরিবহন খরচ বাবদ ৬০ টাকা ব্যয় হয়। মাঠের চাষিরা পাচ্ছেন ৪০০ টাকা।

বিজ্ঞাপন

কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শফিউল আলম জানান, বর্ষা মৌসুমে লবণ চাষিরা ঘাটের কাজে যুক্ত হওয়ায় শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে যায়, ফলে কাজের বণ্টন কমে যায়। সব ঘাটের শ্রমিকদের সমন্বয় করে মাঠের লবণ পরিবহনের কাজে লাগাতে পারলে এই মজুরিবৈষম্য কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হতে পারে বলে মনে করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। অমানবিক এই জীবন থেকে মুক্তি পেতে শ্রমিকরা সরকারি সহায়তাসহ মজুরি কাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%