মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদান নিয়ে সরকার পর্যায়ে মূল্যায়ন শুরু

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে প্রস্তাবিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’-তে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। পরিবর্তিত বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও জাতীয় স্বার্থের নিরিখে এই জোটে যুক্ত হওয়ার সুফল ও ঝুঁকি চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি এক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী জানান, আধুনিক বিশ্বে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক জোটে দেশগুলোর অংশগ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে। সার্ক, বিমসটেক, ইন্দো-প্যাসিফিক, কোয়াড ও ব্রিকস-এর মতো জোটগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় নতুন নতুন কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলা সময়ের দাবি।
প্রতিরক্ষা চুক্তির রূপরেখা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শামা ওবায়েদ জানান, যুদ্ধ-পরবর্তী আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ধারণা থেকে এই উদ্যোগের সূচনা হয়েছে। এই চুক্তির মূল ভিত্তি হলো—সদস্য কোনো দেশ আক্রান্ত হলে তা জোটের অন্য সব সদস্য দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। একই সঙ্গে এই ব্যবস্থায় নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও জনকল্যাণকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশে এই চুক্তিতে যোগ দেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, সরকার বিষয়টি নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে পররাষ্ট্রনীতির প্রেক্ষাপটে এর রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব এবং দেশের অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা যাচাই করে দেখা হবে। দেশের মানুষের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনলে এবং জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষিত হলে সরকার এ বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে।
তিনি আরও বলেন, তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক এবং সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক বন্ধন এই আলোচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করছে। সৌদি আরবে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসীর নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়টিও এই পর্যালোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সামগ্রিক মূল্যায়নে যদি দেখা যায় যে চুক্তিটি দেশের জন্য লাভজনক হবে, তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
