Advertisement

আধুনিক প্রযুক্তি ও অবৈধ জালে ট্রলারে বিপুল ইলিশ আহরণ সাধারণ জেলেদের উদ্বেগের কারণ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি রূপান্তরিত আর্টিসানাল ট্রলিং বোটে মাত্র দুই দিনের মাছ শিকারে প্রায় ৮০ মণ ইলিশ ধরা পড়ার ঘটনায় উপকূলজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার বিকেলে এফবি আব্দুল্লাহ নামের ট্রলারটি বিপুল পরিমাণ ইলিশ নিয়ে আলিপুর মৎস্য বন্দরে ভিড়লে সিফাত ফিসে নিলামের মাধ্যমে মাছগুলো প্রায় ২০ লাখ টাকায় বিক্রি হয়। ট্রলারটির মাঝি বাদশা জানান, ১৮ জন জেলে নিয়ে গভীর সমুদ্রে গিয়ে মঙ্গলবার পায়রা বন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন এলাকায় এই মৎস্য ভাণ্ডারের দেখা পান তারা। তবে বিশাল অংকের মাছ মিললেও ইলিশগুলোর আকার তুলনামূলকভাবে বেশ ছোট।

এই ঘটনা সাধারণ জেলেদের মধ্যে এক বড় প্রশ্ন ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। কুয়াকাটা, মহিপুর, আলিপুর ও আশাখালী উপকূলের সাধারণ জেলেরা জানান, তারা দিনের পর দিন সাগরে কঠোর পরিশ্রম করেও জ্বালানি ও শ্রমিকের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে শূন্য হাতে লোকসান নিয়ে তীরে ফিরতে হচ্ছে তাদের। তাদের অভিযোগ, কিছু ট্রলিং বোট জিপিএস, রাডার ও ফিশ ফাইন্ডারের মতো আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় এবং সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল ব্যবহার করে মাছের ঝাঁক উজাড় করে দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

জেলেদের ভাষ্যমতে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও নির্বিচারে পোনা নিধনের ফলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে। শুধু বড় মাছ নয়, ছোট ইলিশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর পোনা জালে আটকা পড়ায় আগামী দিনে মাছের মজুত শূন্য হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে একই অঞ্চলে অন্য একটি ট্রলিং বোটে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের মাত্রা আরও বেড়েছে। সাগরে মাছের প্রাচুর্য ফিরছে, নাকি প্রযুক্তির অপব্যবহারে মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করা হচ্ছে—তা নিয়ে এখন জোর দাবি উঠেছে যথাযথ নজরদারির।

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট ইলিশ ও পোনা মাছ ধরার এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ বিলুপ্ত হওয়ার পথে হাঁটবে। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. রাজিব সরকার জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের পাশাপাশি অবৈধ জালের ব্যবহার ইলিশের উৎপাদন হ্রাসের প্রধান কারণ। অবৈধ জালের উৎপাদন ও ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ইলিশের উৎপাদন বহুলাংশে বাড়ানো সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, সামুদ্রিক মৎস্য আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি অবৈধ বোট জব্দ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে। তবে সাধারণ জেলে ও মৎস্য সংশ্লিষ্টরা দাবি জানিয়েছেন, সাগরের সম্পদ যেন গুটি কয়েক প্রভাবশালী বা অসাধু ট্রলিং বোট মালিকের কুক্ষিগত না থাকে, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

0%
0%
0%
0%