উদ্বোধনের তিন মাস পেরিয়েও অচল বগুড়ার আধুনিক কসাইখানা

বগুড়া শহরবাসীর জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংস নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক কসাইখানাটি উদ্বোধনের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। গত ১৭ মে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বগুড়া মহানগরীর জয়পুরপাড়ায় ৫০ শতক জমির ওপর নির্মিত এই কসাইখানাটির উদ্বোধন করেন। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এই স্থাপনাটি বর্তমানে বগুড়া সিটি করপোরেশনের অধীনে থাকলেও লোকবল নিয়োগ ও দরপত্র আহ্বান না করায় স্থবির হয়ে আছে এর কার্যক্রম।
বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজী আশরাফুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ শুরু হওয়া এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলতি বছরের ৩০ মার্চ শেষ হয়। প্রতি ঘণ্টায় ১৫টি গরু এবং ৩০টি ছাগল বা ভেড়া জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতাসম্পন্ন এই কসাইখানায় অত্যাধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা রয়েছে। লোকবল নিয়োগের পর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে, যা সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় পেশাদারত্ব আনবে।
বগুড়া সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হেনা জানান, কসাইখানাটি বুঝে পাওয়ার পর এর পরিচালনার ব্যয় ও অন্যান্য খুঁটিনাটি বিষয় যাচাই করা হয়েছে। এটি চালু হলে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পরিচালন ব্যয় হতে পারে। তবে গরু বা ছাগল প্রতি জবাইয়ের চার্জ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তবে প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, দৈনিক ৩০টি গরু জবাই করা সম্ভব হলে প্রতিটির বিপরীতে ১,০০০ টাকা চার্জ নির্ধারণের একটি প্রস্তাবনা রয়েছে।
শহরের যত্রতত্র অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পশু জবাই ও সনদবিহীন মাংস বিক্রির কারণে জনস্বাস্থ্য দীর্ঘকাল ধরে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। কলোনি বাজার, বকশীবাজার ও খান্দার বাজারসহ শহরের অন্তত ১০টি বাজারের প্রায় ২০০টি দোকানে ক্রেতারা মানহীন মাংস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে বনানী সুলতানগঞ্জ হাটের মতো এলাকাগুলোতে জবাই করা পশুর বর্জ্য সরাসরি করোতোয়া নদীতে ফেলে দেওয়ায় মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে অস্বচ্ছতার কারণে তারা কী ধরনের পশু খাচ্ছেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। কসাইখানার কার্যক্রম দ্রুত শুরু হলে এই অনিয়ম কমবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী রেজাউল করিম জানান, বর্তমানে মাংস বিক্রেতাদের তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে এবং খুব দ্রুত দরপত্র আহ্বান করে কসাইখানাটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হবে।
