Advertisement

ফরিদপুরের সালথায় বাম্পার ফলনেও লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা পেঁয়াজ চাষি

‘পাট ও পেঁয়াজের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত ফরিদপুরের সালথায় এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক কম হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা। প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে যেখানে কৃষকের ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা, সেখানে বাজারে তা বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা দরে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী, সালথার আটটি ইউনিয়নে প্রায় ৫০ হাজার কৃষক রয়েছেন, যারা ১৫ হাজার হেক্টর আবাদি জমির সিংহভাগেই পেঁয়াজ চাষ করেন। চলতি মৌসুমে ১১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। ভালো ফলন হলেও বর্তমানে বাজারের নাজুক পরিস্থিতির কারণে প্রান্তিক চাষিদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সালথা সদর বাজার, নকুলহাটি, মোন্তারমোড় ও বালিয়া বাজারসহ বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা যায়, দাম না পেয়ে অনেক কৃষক পেঁয়াজ রাস্তায় ফেলে দিচ্ছেন। এছাড়া মৌসুমের শুরুতে ভালো দামের আশায় যে পেঁয়াজ মজুদ করেছিলেন, সঠিক সংরক্ষণের অভাবে তার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশই মাচায় পচে নষ্ট হয়ে গেছে। লোকসান এড়াতে অনেক চাষি বিদেশি পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করার পাশাপাশি সরকারি প্রণোদনা বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় পাইকারি ব্যবসায়ী মো. মাসুম সরদার জানান, মোকামে চাহিদা কম এবং বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় পেঁয়াজের দাম নিম্নমুখী। তবে বড় পেঁয়াজের চেয়ে ছোট পেঁয়াজের চাহিদা বাজারে কিছুটা বেশি রয়েছে। আগামী মাসের শুরুতে বাজার পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আহসানুল হাবিব আল আজাদ জনি জানান, সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এবার ৮০০ জন কৃষককে বিনামূল্যে সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে। চাষিদের লোকসান কমাতে এবং ফসল সংরক্ষণের সুবিধার্থে আধুনিক হিমাগার বা সংরক্ষণাগার তৈরির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করা হবে। কৃষকরা এখন লোকসান কাটিয়ে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

0%
0%
0%
0%