Advertisement

আয়তন বাড়িয়ে ১২৫৫ বর্গ কিলোমিটারের নতুন মহাপরিকল্পনার পথে চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম নগরীর বর্তমান আয়তন ১৫৫ বর্গ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ১২৫৫ বর্গ কিলোমিটারে উন্নীত করার লক্ষ্যে ২৫ বছর মেয়াদি চট্টগ্রাম সিটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। ইতিমধ্যে এই মাস্টারপ্ল্যানের ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৬১ শতাংশ। ২০৫০ সাল নাগাদ নগরীর সম্ভাব্য ৮৬ লাখ ৫৩ হাজার মানুষের আবাসন ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এই মাস্টারপ্ল্যানের গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রস্তাবিত মাস্টারপ্ল্যানে নগরের ভূমির ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট বিন্যাস রাখা হয়েছে, যেখানে ৩১ দশমিক ৯২ শতাংশ কৃষি জমি, ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকা এবং ২ দশমিক ৩২ শতাংশ বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়, দিঘি ও পুকুর সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ৩৯ হাজার ৮৪৫টি জলাশয় ও পাহাড় রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে কর্তৃপক্ষ, যার অংশ হিসেবে পাহাড়ি এলাকায় নতুন ভবন নির্মাণ ও নকশা অনুমোদন পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সিডিএ ভবনে আয়োজিত গণশুনানিতে মাস্টারপ্ল্যানের বিভিন্ন দিক ডিজিটাল ব্যানারের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। তবে জনশুনানিতে অংশ নেওয়া নাগরিকদের একাংশ তাদের জমির শ্রেণি পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আপত্তি ও দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে পুকুর বা জলাশয় হিসেবে চিহ্নিত ভূমির মালিকরা ভবন নির্মাণের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন। সিডিএ কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আইন ও মাস্টারপ্ল্যানের বাইরে কোনো নকশা অনুমোদন দেওয়া হবে না এবং বিধিনিষেধ অমান্য করে ভবন নির্মাণ করলে তা ভেঙে ফেলা হবে।

ভবিষ্যতের জনসংখ্যার চাপ সামলাতে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ মডেলে আনোয়ারা উপজেলায় একটি স্যাটেলাইট সিটি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া জেলার আটটি উপজেলাকে এই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মাস্টারপ্ল্যানে পর্যটন উন্নয়নের পাশাপাশি ইউরোপিয়ান ক্লাব, অলি খাঁ মসজিদ, নন্দিরহাট ও পাঁচকড়ি জমিদার বাড়িসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা সংরক্ষণের জন্য ১০ দফা সুপারিশ যুক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আগামী সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় ও গণশুনানি কার্যক্রম চলবে। সিডিএর উপ-প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ ও মাস্টারপ্ল্যান প্রকল্পের কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. আবু ঈসা আনসারী জানান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের মতামত নিয়ে চূড়ান্ত পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। নগরীর মূল ভূখণ্ডের ওপর চাপ কমাতে পরিকল্পিত উপশহর গড়ে তোলার মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ আশাবাদী।

0%
0%
0%
0%