Advertisement

রাউজান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমওর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. টিবলু কান্তি দের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, রোগীদের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করতে বাধ্য করা এবং ওষুধের বিনিময়ে কমিশন বাণিজ্যের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাসিক মেডিকেল অফিসার হিসেবে সপ্তাহে ৬ দিন দায়িত্ব পালনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তিনি সপ্তাহে মাত্র ৩ থেকে ৪ দিন কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন।

হাসপাতালের অভ্যন্তরে প্রভাব খাটিয়ে ডা. টিবলু কান্তি দে রীতিমতো একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি করেছেন বলে সহকর্মীদের ভাষ্য। হাসপাতালে ডিউটিরত সময়ে তিনি নিজস্ব চেম্বারে রোগী দেখেন এবং হাসপাতালের বাইরের ল্যাব টেকনিশিয়ানদের ডেকে এনে রোগীদের অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে বাধ্য করেন। বিশেষ করে জলিলনগর এলাকার নিউ স্টার ল্যাব নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রোগীদের পাঠানো নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। অথচ প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স ২০২৩ সালের পর আর নবায়ন করা হয়নি এবং বি-ক্যাটাগরির পরীক্ষা করার কোনো আইনি বৈধতা তাদের নেই।

বিজ্ঞাপন

রোগীদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপত্রে ওষুধের নাম না লিখে সাদা কাগজে নির্দিষ্ট ওষুধের নাম লিখে বাইরে থেকে কেনার জন্য প্ররোচিত করা হয়। এতে করে দরিদ্র রোগীরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং প্যারাসিটামল ও স্যালাইন ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ পাচ্ছেন না। ডা. টিবলু কান্তি দে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে আর্থিক চুক্তির মাধ্যমে রোগীদের জিম্মি করে এই অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া হাসপাতালে না এসেও মাসিক হাজিরা খাতায় শতভাগ উপস্থিতি দেখানো তার এক ধরণের প্রাতিষ্ঠানিক কারচুপি।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. টিবলু কান্তি দে দাবি করেছেন, ব্যক্তিগত কাজ বা দাপ্তরিক মিটিংয়ের কারণে তাকে মাঝে মাঝে বাইরে থাকতে হয়। নিয়মিত রোগী দেখার বিষয়টি হাজিরা খাতা যাচাই করলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। হাসপাতালের দায়িত্ব পরিচালনায় নিজের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, তার অনুপস্থিতিতে হাসপাতালের কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা থাকে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহজাহান জানান, সরকারি হাসপাতালে নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করার কোনো অবকাশ নেই। কেউ যদি যথাযথ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেন অথবা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় সাধারণ রোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শৃঙ্খলা ফেরাতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

0%
0%
0%
0%