Advertisement

কাপ্তাই লেকে কচুরিপানার স্তূপে অচল নৌপথ ভোগান্তিতে যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই লেকের জেটিঘাট সংলগ্ন প্রায় এক কিলোমিটার নৌপথ কচুরিপানার স্তূপে ঢাকা পড়ে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। উজান থেকে ভেসে আসা বিপুল পরিমাণ কচুরিপানা ঘাটের বিভিন্ন অংশে আটকা পড়ায় ইঞ্জিনচালিত বোটসহ সব ধরনের নৌযান চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র পাঁচ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে বর্তমানে যাত্রী ও বোট চালকদের এক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।

নৌপথের এই অচলাবস্থায় সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। কাপ্তাই অভ্যন্তরীণ নৌঘাট, বিএফডিসি প্লাটুন ঘাট ও এর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় কচুরিপানার পুরু স্তর জমে থাকায় নৌযানগুলো স্বাভাবিকভাবে ঘাটে ভিড়তে পারছে না। এতে মাছ পরিবহনসহ দৈনন্দিন কাজে লিপ্ত ব্যক্তিদের সময় ও শ্রম উভয়ই অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিলাইছড়িগামী যাত্রী সুজন তঞ্চঙ্গ্যা জানান, জেটিঘাট এলাকা ছাড়িয়ে সামনের দীর্ঘ পথ কচুরিপানায় ভরে থাকায় স্বাভাবিক যাতায়াত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বোটচালক মো. মাইন উদ্দীন ও মো. রুবেল জানান, কচুরিপানার কারণে প্রতিনিয়ত বোটের প্রপেলার বা পাখা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা তাদের জন্য বাড়তি মেরামত খরচের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা জানান, লেকের স্রোতের টানে বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বাঘাইছড়ি, বরকল ও নানিয়ারচর থেকে এসব কচুরিপানা ভেসে এসে জেটিঘাট এলাকায় জড়ো হয়।

কাপ্তাই মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় সৃষ্ট স্রোতের কারণে কচুরিপানাগুলো জেটিঘাট এলাকায় আটকে যায়। বিগত বছরগুলোতে বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বড় ট্রলারের মাধ্যমে কচুরিপানা অপসারণ করলেও এবার এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। মৎস্য ব্যবসায়ীরা দ্রুত কচুরিপানা পরিষ্কার করে নৌচলাচল স্বাভাবিক করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বিষয়টি নিয়ে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, প্রতি বছরই এ সময়ে কর্তৃপক্ষ কচুরিপানা পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তবে উজান থেকে ক্রমাগত নতুন করে কচুরিপানা ভেসে আসায় স্থায়ী সমাধান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কচুরিপানা নিয়ন্ত্রণ করা বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

0%
0%
0%
0%