Advertisement

চট্টগ্রাম বন্দরে নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর অবস্থানে কর্তৃপক্ষ তিন নির্দেশনা জারি

চট্টগ্রাম বন্দরসীমায় নৌ-নিরাপত্তা জোরদার এবং বহির্নোঙরে বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর এলাকায় অননুমোদিত নৌযানের চলাচল, অবৈধভাবে জাল পাতা এবং নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের ফলে ক্রমবর্ধমান দুর্ঘটনার ঝুঁকি মোকাবিলায় সংস্থাটি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট এণ্ড ইনফরমেশন সিস্টেমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। একইসঙ্গে নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌপরিবহণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে টহল ও সমন্বয় বাড়ানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশেষ করে বহির্নোঙরে অবস্থানরত জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে শিপিং এজেন্টদের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ওয়াচম্যান বুকিং সেলের অনুমোদন গ্রহণ এখন থেকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী, বন্দরসীমার ভেতর সব জাহাজে আন্তর্জাতিক বন্দর নিরাপত্তা বিধিমালা বা আইএসপিএস কোড কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। বহির্নোঙরে পৌঁছামাত্রই জাহাজগুলোকে নিয়মিত ডেক পেট্রোলিং, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং ভিএইচএফ চ্যানেলের মাধ্যমে পোর্ট কন্ট্রোলের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখতে বলা হয়েছে। পোর্ট কন্ট্রোলের আগাম অনুমতি ছাড়া কোনো ফ্রেশ ওয়াটার বার্জ বা সার্ভিস বোট বাণিজ্যিক জাহাজের পাশে ভিড়তে পারবে না। এছাড়া কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নজরে এলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বন্দরের প্রবেশপথ ও বহির্নোঙর এলাকায় যেকোনো ধরনের মাছ ধরা বা জাল স্থাপনের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যা নৌ-চলাচলের জন্য বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ওয়াচম্যানদের জাহাজের নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুযায়ী সার্বক্ষণিক সজাগ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২ অনুযায়ী এই নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%