রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম নিয়ে জোর আলোচনা বৃহস্পতিবার ঘোষণা হতে পারে দলীয় প্রার্থী

দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে কার নাম চূড়ান্ত হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানামুখী জল্পনা। তবে সব হিসাব-নিকাশ ও দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি পদটি শূন্য হওয়ায় নতুন রাষ্ট্রপতির সন্ধানে নেমেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। জাতীয় সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি অনেকটা নিশ্চিত। গত কয়েক সপ্তাহের নিবিড় রাজনৈতিক তৎপরতা এবং দলের উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠকের পর মির্জা ফখরুলের নামই সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
মনোনয়নের গুঞ্জনের মধ্যেই মঙ্গলবার সচিবালয়ে মির্জা ফখরুলের কার্যালয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় দেখা যায়। যদিও সম্ভাব্য এই বড় দায়িত্ব নিয়ে তিনি এখনো নিজের অবস্থান খোলাসা করেননি। বরং তাঁকে কিছুটা সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে। শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি উপস্থিত ব্যক্তিদের বলেন, ‘আগে হোক, তারপর।’ সন্ধ্যা পর্যন্ত দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষ করে তিনি বেইলি রোডের সরকারি বাসভবনে ফিরে যান, যেখানে রাত পর্যন্ত তাঁর অনুসারীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার নির্ধারিত তারিখ। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, বৃহস্পতিবারই আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হিসেবে এটাই তাঁর শেষ কর্মদিবস হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শেষে ১৬ আগস্ট বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। মির্জা ফখরুল ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আবদুল মঈন খানের নামও আলোচনায় ছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ফখরুলের প্রার্থিতার পাল্লাই ভারী।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও মহাসচিব হিসেবে এক দশকের বেশি সময়ের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি তাঁর প্রার্থিতার পক্ষে বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন দলের নেতারা। এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এটি একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হবে। মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক সম্মতি ও স্বাক্ষরের যে নিয়ম রয়েছে, তা যথাসময়েই সম্পন্ন হবে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমের বাড়াবাড়ি আগ্রহের বিষয়টিও তিনি কৌশলে এড়িয়ে গেছেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় এবং ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা থাকায় দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো সংসদ সদস্যের ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে। বর্তমানে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের ভোটাধিকারের ভিত্তিতেই দেশের পরবর্তী সাংবিধানিক প্রধান নির্বাচিত হবেন।
