AdvertisementAdvertisement

আশুলিয়ায় জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা: ট্রাইব্যুনালে মায়ের আহাজারি ও বিচার দাবি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে আশুলিয়ায় সাতজনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে এক হৃদয়বিদারক বর্ণনা দিয়েছেন শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের মা শাহিনা বেগম। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন, তার সন্তান সজলকে জীবিত অবস্থায় আগুনে নিক্ষেপ করে পৈশাচিকভাবে হত্যা করা হয়েছে। বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি অবিলম্বে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়া থানার অদূরে একটি পুলিশ ভ্যানে ছয়টি মরদেহের সঙ্গে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সাজ্জাদ হোসেন সজল বেঁচে ছিলেন। তদন্তকারীদের বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়েছে, আগুন দেওয়ার মুহূর্ত পর্যন্ত সজলের শরীরের নড়াচড়া দৃশ্যমান ছিল। সেই মুহূর্তে তাকে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া তো দূরের কথা, বরং নিষ্ঠুরভাবে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

নিহত সাতজন হলেন সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস-সবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম। ঘটনার ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা দুটি অভিযোগ একত্রিত করে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ ও স্থানীয় নির্বাচনী পোস্টার দেখে ট্রাইব্যুনাল অপরাধস্থল নিশ্চিত করতে সক্ষম হন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৬ জন আসামির বিরুদ্ধে রায় প্রদান করেছেন। রায়ে ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড, সাতজনকে যাবজ্জীবন এবং দুজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, একজনকে দেওয়া হয়েছে খালাস। বর্তমানে আটজন আসামি কারাগারে আটক থাকলেও বাকি আটজন পলাতক রয়েছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় পুলিশ ও রাজনৈতিক সহযোগীদের নির্বিচার গুলিবর্ষণে অন্তত ৩১ জন নিহত হন। পরের দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয় এবং এই ঘটনায় দেড় হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল তার পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট করেছে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করেছে এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এই জঘন্য অপরাধ সংঘটনে সরাসরি সহায়তা করেছেন।

সাক্ষ্য দেওয়ার সময় শাহিনা বেগম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পিকআপে থাকা পোড়া মরদেহের পায়ের জুতা ও আংশিক ভস্মীভূত পরিচয়পত্র দেখে তিনি সজলকে শনাক্ত করেন। অন্যদিকে, দণ্ডিত আসামিদের মধ্যে এসআই আবদুল মালেক ও কনস্টেবল মুকুল চোকদার খালাস চেয়ে আপিল করেছেন বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুল হাসান। তবে এখন পর্যন্ত সেই আপিলের শুনানি শুরু হয়নি। এই রায় কার্যকর করার দাবি এখন জনমনে তীব্রতর হয়ে উঠেছে।

0%
0%
0%
0%