জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ডকুমেন্টারি নিয়ে রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে হট্টগোল ও মন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি তথ্যচিত্রকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাষ্ট্রপতি ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সামনেই শহীদ পরিবার ও অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, তথ্যচিত্রটিতে গণ–অভ্যুত্থানের প্রকৃত প্রেক্ষাপট ও শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়নি।
তথ্যচিত্র প্রদর্শন শেষ হওয়ার পরপরই মিলনায়তনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিবাদ ভেসে আসতে থাকে। শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে আপত্তি জানিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে হট্টগোল সৃষ্টি করেন। তাদের দাবি, জুলাই বিপ্লবের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি ও জনমানুষের ত্যাগের ইতিহাসকে অবমাননাকরভাবে সংক্ষিপ্ত বা বিকৃত করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী দ্রুত মঞ্চে এসে উপস্থিতদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তবে মন্ত্রীর বক্তব্যে উত্তাপ না কমলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেন। তিনি আন্দোলনের অন্যতম নেতা আক্তার হোসেনকে মঞ্চে ডেকে নিলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। আক্তার হোসেন উপস্থিত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন।
পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী তথ্যচিত্রটির অসম্পূর্ণতার দায় স্বীকার করে উপস্থিত সকলের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি ঘোষণা দেন যে, শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের মধ্য থেকে একটি প্রতিনিধিদল গঠন করে তথ্যচিত্রটি পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। তাদের পরামর্শ ও মতামতের ভিত্তিতে ঐতিহাসিক সত্য ও আত্মত্যাগের ঘটনাগুলো অন্তর্ভুক্ত করে তথ্যচিত্রটি নতুনভাবে সংস্কার করা হবে।
মন্ত্রীর এই আশ্বাসের পর মিলনায়তনের পরিবেশ স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং অনুষ্ঠানের বাকি কার্যক্রম শুরু হয়। তবে এনসিপি নেতা আক্তার হোসেন তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের সময় তথ্যচিত্রের সমালোচনা বজায় রাখেন এবং রাষ্ট্রপতির অনুমতি নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে মিলনায়তন ত্যাগ করেন। এই ঘটনা গণ–অভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণের বিষয়ে শহীদ পরিবারের সংবেদনশীলতাকে আবারও সামনে নিয়ে এল।
