AdvertisementAdvertisement

সবার মতামত নিয়ে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব তৈরি করবে বিশেষ কমিটি

সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্য নিয়ে গঠিত বিশেষ কমিটি রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী এবং পেশাজীবীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী প্রস্তাব প্রণয়ন করবে বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে আয়োজিত কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই কথা জানান।

সরকার একটি উন্মুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, বিভিন্ন মহলের প্রস্তাবনা ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে কমিটির প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। পরবর্তী সময়ে এই সুপারিশমালার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তা বাস্তবায়নে এই সংশোধনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বৈঠকে অংশীজনদের সাথে আলোচনা এবং মতবিনিময়ের সময়সূচি নিয়ে প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল আমন্ত্রিত বিশেষজ্ঞ বা রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিই নয়, বরং যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সংবিধান বিষয়ে তাদের মতামত জমা দিতে পারবেন। যদিও কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

বিরোধী দলের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সরকার তাদের কাছ থেকে পাঁচজন প্রতিনিধির নাম চেয়ে পাঠালেও তা এখনো পাওয়া যায়নি। তবে বিরোধী দল প্রতিনিধি মনোনয়ন না দিলেও তাদের সংসদ সদস্যদের মতামতকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। লিখিতভাবে বা সরাসরি উপস্থিত হয়ে মতামত প্রদানের সুযোগ তাদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

কমিটির কার্যপরিধি নিয়ে সভাপতি জানান, জুলাই জাতীয় সনদে উল্লিখিত সংবিধান-সংক্রান্ত ৪৮টি প্রস্তাব পর্যালোচনা করাই হবে তাদের মূল লক্ষ্য। যে সব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হবে, সেগুলো সংশোধনী প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং মতপার্থক্যের বিষয়গুলো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে। এছাড়া বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা সংবিধান সংশোধনী বিষয়ক অঙ্গীকারগুলোকেও পর্যালোচনার আওতায় আনা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংশোধনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে না দেখে বরং একে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দায়িত্ব হিসেবেই দেখছে কমিটি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার আলোকে একটি শক্তিশালী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই বিশেষ কমিটির মূল অভিলক্ষ্য।

0%
0%
0%
0%