AdvertisementAdvertisement

রাজধানীর যানজট নিরসনে গতি আনবে এমআরটি লাইন-৫ এর দুই রুট

রাজধানীর দীর্ঘস্থায়ী যানজট নিরসন এবং মহানগরীর পূর্ব ও পশ্চিমাংশের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্প এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের আওতায় হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা এবং গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে দ্রুতগতির মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড বা ডিএমটিসিএল-এর মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, নর্দার্ন ও সাউদার্ন—এই দুই ভাগে বিভক্ত প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে নগরবাসীর যাতায়াতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুট সাভারের হেমায়েতপুর থেকে যাত্রা শুরু করে বালিয়ারপুর, আমিনবাজার ও গাবতলী হয়ে মিরপুরের ভেতর দিয়ে বনানী ও গুলশান ছুঁয়ে ভাটারা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। প্রায় ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই রুটে ১৩.৫ কিলোমিটার থাকবে পাতাল পথে এবং ৬.৫ কিলোমিটার উড়াল পথে। হেমায়েতপুর, বালিয়ারপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার, গাবতলী, দারুস সালাম, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, মিরপুর-১৪, কচুক্ষেত, বনানী, গুলশান-২, নতুন বাজার ও ভাটারা—এই ১৪টি স্টেশন দিয়ে সজ্জিত রুটটিতে চলাচল করতে সময় লাগবে মাত্র ৩২ মিনিট, যা বর্তমান সড়কপথের দীর্ঘ ভোগান্তি লাঘব করবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, গাবতলী থেকে শুরু হয়ে দাশেরকান্দি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট। প্রায় ১৭.২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটে ১৫টি স্টেশন থাকবে, যার মধ্যে রয়েছে টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, রাসেল স্কয়ার, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাবনগর এবং নাসিরাবাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এই রুটে চলাচল করলে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পৌঁছাতে মাত্র ২৮ মিনিট সময় ব্যয় হবে।

উড়াল ও পাতাল উভয় অবকাঠামো সমন্বয়ে নির্মিতব্য এই প্রকল্পটি রাজধানী ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করে তুলবে। প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ হলে ঢাকার পশ্চিম, মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দারা যানজটমুক্ত দ্রুত যাতায়াতের সুফল ভোগ করবেন। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এই মেট্রোরেল রুটগুলো চালু হলে কেবল ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমবে না, বরং পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে এটি নগরীর অর্থনীতিতেও গতি সঞ্চার করবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%