AdvertisementAdvertisement

মুক্ত ছয় সমন্বয়ক জামায়াত ও ছাত্রশিবির নিষিদ্ধ ঘোষণা

২০২৪ সালের ১ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার এক সন্ধিক্ষণে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) জিম্মি দশা থেকে মুক্তি পেলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় শীর্ষ সমন্বয়ক। একই দিনে নির্বাহী আদেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তৎকালীন সরকার। উত্তাল এই দিনে দেশজুড়ে ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতা নিহতদের স্মরণে রাজপথে নেমে এলে বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

দুপুর দেড়টার দিকে কঠোর নিরাপত্তায় ডিবি কার্যালয় থেকে ছয় সমন্বয়ককে তাদের নিজ নিজ বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। ডিবি হেফাজতে থাকাকালীন নাহিদ ইসলামসহ বেশ কয়েকজন সমন্বয়ক টানা দুই দিন অনশন করায় শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। মুক্তির পর সমন্বয়ক সারজিস আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জানান, তরুণ প্রজন্মকে কোনোভাবেই দাবিয়ে রাখা সম্ভব নয় এবং জুলুমের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

নিহত ও আহতদের স্মরণে সারা দেশে পালিত হয় ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ কর্মসূচি। দেশের অন্তত ১৬টি জেলা ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা মিছিল, পথনাটক ও চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানান। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, আন্দোলনের ফলে সৃষ্ট সহিংসতায় ২১২ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৩৭ জনের শরীরে ছিল প্রাণঘাতী গুলির চিহ্ন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলপ্রয়োগের তীব্র নিন্দা জানালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস প্রদান করেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮(১) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কর্মকাণ্ড ও সহিংসতায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের এমন সিদ্ধান্তের বিপরীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমে না গিয়ে ২ আগস্ট দেশজুড়ে ‘প্রার্থনা ও ছাত্র-জনতার গণমিছিল’ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান এই কর্মসূচিতে শিক্ষক, আইনজীবী ও অভিভাবকসহ সর্বস্তরের মানুষ সংহতি প্রকাশ করেন। তবে কোথাও কোথাও পুলিশি বাধায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। জাতিসংঘ সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়। সব মিলিয়ে ১ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অতি সংকটময় ও স্মরণীয় দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল।

সম্পর্কিত- জুলাই আন্দোলন
0%
0%
0%
0%