বৈষম্যহীন উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করবে সরকার: প্রতিমন্ত্রী অমিত

বৈষম্যহীন উন্নয়ন নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য এবং জনগণের ট্যাক্সের টাকায় গড়ে ওঠা সম্পদের সুষম বণ্টনে কোনো প্রকার অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। শুক্রবার যশোর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত উন্নয়ন সহায়তার উপকরণ ও অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দুর্নীতির শেকড় উপড়ে ফেলে জনগণের প্রাপ্য সুবিধা তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আধুনিকায়নের জন্য ১০০টি সিলিং ফ্যান, ১০টি হুইলচেয়ার ও ১০টি রোগী পরিবহনের ট্রলিসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রদান করা হয়। এছাড়া প্রতিবন্ধী সেবা কেন্দ্রের জন্য ১০টি হুইলচেয়ার এবং আটটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার ল্যাব ডিজিটাল সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে। ১৭৫ জন উপকারভোগীকে ৪ হাজার টাকা করে নগদ অনুদান, ১০টি গৃহ নির্মাণ চেক, ৫০টি পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী এবং ক্ষুদ্র ও কৃষি উদ্যোক্তাদের মাঝে ঋণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে দলীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে উন্নয়নের যে বৈষম্য ছিল, তা দূর করে সরকার সবাইকে সমান সুযোগ দিতে চায়। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোতেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে কাউকে আর প্রভাবশালীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে না হয়। ধর্মের ভিত্তিতে বিভেদ সৃষ্টি না করে বরং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি আধুনিক ও উন্নত সমাজ গড়ে তোলাই সরকারের অঙ্গীকার।
মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। নিজ দলের লোক হলেও অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে এবং দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য দেখানো কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নে যশোর সদর উপজেলার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ল্যাব আধুনিকায়ন এবং পাঠাগারে নতুন বই সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিমন্ত্রী উপজেলা পরিষদ চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন এবং পরে মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে জনদুর্ভোগ বিবেচনায় তিনি মেলার সময়সীমা আরও দুই দিন বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানটিতে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।