জর্জিয়ায় স্কুল গুলিবর্ষণে চার হত্যার দায়ে ১৬ বছর বয়সী কিশোরের দোষ স্বীকার

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের অ্যাপালাচি হাই স্কুলে সংঘটিত ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনায় ১৬ বছর বয়সী কোল্ট গ্রে আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করেছে। হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র সংশ্লিষ্ট ৫৫টি গুরুতর অভিযোগের দায় স্বীকার করে সে তার জবানবন্দি দিয়েছে। এই জবানবন্দির ফলে কিশোর বয়সী এই অপরাধীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নিশ্চিত হয়েছে বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সংঘটিত এই মর্মান্তিক হামলায় দুইজন শিক্ষার্থী ও দুইজন শিক্ষক নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১৪ বছর বয়সী ম্যাসন শার্মারহর্ন ও ক্রিশ্চিয়ান অ্যাঙ্গুলো এবং ৩৯ বছর বয়সী শিক্ষক রিচার্ড অ্যাস্পিনওয়াল ও ৫৩ বছর বয়সী শিক্ষিকা ক্রিস্টিনা ইরিমি রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন শিক্ষক ও আটজন শিক্ষার্থী আহত হয়ে বিচারের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন।
কোল্ট গ্রে সরাসরি এই হামলা চালালেও তার বাবার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আইনি বিতর্ক শুরু হয়েছে। কোল্টের বাবা কলিন গ্রে-এর বিরুদ্ধেও এরই মধ্যে দ্বিতীয় মাত্রার হত্যা ও অনিচ্ছাকৃত নরহত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। যদিও ঘটনার দিন তিনি স্কুলে উপস্থিত ছিলেন না, তবে অভিযোগ রয়েছে যে তিনি তার ছেলেকে হামলার জন্য ব্যবহৃত স্বয়ংক্রিয় রাইফেলটি উপহার দিয়েছিলেন।
ব্যারো কাউন্টির সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক নিকোলাস প্রিম অভিযুক্তের জবানবন্দি গ্রহণ করার আগে তাকে আইনি পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেন। শুনানির সময় ম্যাসন শার্মারহর্নের মা ব্রিয়ানা শার্মারহর্ন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তিনি কোনোভাবেই এই খুনিকে ক্ষমা করবেন না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যদিও অনেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি সতর্ক সংকেত উপেক্ষা করেছেন, তবুও এই পৈশাচিক সিদ্ধান্তের দায়ভার সম্পূর্ণভাবে কোল্ট গ্রে-এর।
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর কোল্টের শয়নকক্ষে ২০১৮ সালের ফ্লোরিডার মারজরি স্টোনম্যান ডগলাস হাই স্কুলের হামলাকারী নিকোলাস ক্রুজের প্রতি উৎসর্গকৃত একটি বেদি খুঁজে পাওয়া গেছে। তার মা মার্সি গ্রে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি বারবার কলিন গ্রে-কে অস্ত্রগুলো সুরক্ষিত রাখতে এবং ছেলের নাগালের বাইরে রাখতে অনুরোধ করেছিলেন। তবে অভিযুক্তের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও পিতা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।
অস্ত্র বহন ও রাখার সাংবিধানিক অধিকার থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক স্কুল শুটিংয়ের ঘটনা দেশটির নীতিনির্ধারকদের ভাবিয়ে তুলেছে। ‘এভরিটাউন ফর গান সেফটি’ নামক সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৬৪টি স্কুলে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে এ পর্যন্ত ২৪ জন নিহত ও ৩২ জন আহত হয়েছেন, যা মার্কিন সমাজব্যবস্থায় নিরাপত্তাহীনতাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা