দেশের ছয় নদ-নদীর ১০ পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপরে পানি

ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ২২২ মিলিমিটার প্রবল বর্ষণ এবং দেশের অভ্যন্তরে চট্টগ্রামে ২৯৮.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বৃহস্পতিবার সকালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ছয়টি নদ-নদীর ১০টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

নদ-নদীর পানি পরিমাপের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাঙ্গু নদীর বান্দরবান পয়েন্টে ১৪২ সেন্টিমিটার ও দোহাজারি পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার, মাতামুহুরি নদীর লামা পয়েন্টে ১৫৪ সেন্টিমিটার ও চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৪৯ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর মারকুলি পয়েন্টে ১১ সেন্টিমিটার এবং মনু নদীর মৌলভীবাজার রেলব্রিজ ও মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৫৫ সেন্টিমিটার করে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। একইসাথে ধলাই নদীর কমলগঞ্জ পয়েন্টে ৩৩ সেন্টিমিটার এবং খোয়াই নদীর বল্লা পয়েন্টে ২২০ সেন্টিমিটার ও হবিগঞ্জ পয়েন্টে ১১৫ সেন্টিমিটার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।

সারাদেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সমতলে থাকা নদ-নদীগুলোর ৯৩টি পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বিপরীতে ৩১টি পয়েন্টে পানি হ্রাস পেলেও তিনটি পয়েন্টে পানির স্তর অপরিবর্তিত রয়েছে। পরিস্থিতির এই নাজুক মুহূর্তে পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্ক অবস্থানে থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে।

ভবিষ্যৎ বন্যার আশঙ্কায় কয়েকটি নদ-নদীর পানির প্রবাহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর পয়েন্ট, কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ ও শেরপুর পয়েন্ট এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা ও লরেরগড় পয়েন্টের পানির স্তর বর্তমানে বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। এই এলাকাগুলোতে যেকোনো সময় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন
সম্পর্কিত- বন্যা
0%
0%
0%
0%