AdvertisementAdvertisement

মিরপুরে বিপুল বিদেশি প্রাণী উদ্ধার পাচারচক্রের নেপথ্যে সক্রিয় শক্তিশালী সিন্ডিকেট

রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে একটি আবাসিক ভবনের ছাদে অভিযান চালিয়ে বিষাক্ত ট্যারান্টুলা মাকড়সা ও ম্যাক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেকসহ ১ হাজার ১০৪টি বিদেশি প্রাণী উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। অবৈধভাবে সংরক্ষণ ও বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা এসব প্রাণীর মধ্যে কর্ণ স্নেক, ডামফি ফ্রগ, লেপার্ড গ্যাকো ও সাইডনেক কচ্ছপসহ নানা প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। তবে অভিযান পরিচালনার আগেই প্রায় ৫ হাজার প্রাণী বিক্রি হয়ে গেছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক আব্দুল্লাহ-আস-সাদিক জানান, প্রচলিত আইন অনুযায়ী বন্যপ্রাণী অবৈধভাবে আমদানি, রপ্তানি, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। সম্প্রতি মিরপুরেই অপর এক অভিযানে আট প্রজাতির ৪২টি দেশি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও কীভাবে এসব প্রাণী নিয়মিত দেশে ঢুকছে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ জানান, শখের বশে পোষার নামে এসব প্রাণী আনা হচ্ছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে চোরাইপথে প্রতিবেশী দেশ ভারতে পাচার করা হচ্ছে। থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এসব প্রাণীর ক্ষেত্রে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও নজরদারিতে ঘাটতি রয়েছে। কাস্টমসের পক্ষে অনেক সময় বৈধ ও অবৈধ প্রাণীর পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে, যা পাচারকারীদের জন্য সুযোগ তৈরি করে দেয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, বিদেশি এসব প্রাণী আমদানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কোয়ারেন্টাইন নীতিমালা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। এসব প্রাণী পরীক্ষার কোনো সুযোগ না থাকায় দেশের জীববৈচিত্র্যে মারাত্মক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক সময় অজানা রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট দাবি করেছে, বিমানবন্দরসহ অভ্যন্তরীণ বাজারে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং নিয়মিত অভিযান চলছে। তবে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে, শুধুমাত্র অভিযান চালিয়ে এই অবৈধ ব্যবসা দমন করা সম্ভব নয়। বিমানবন্দরে ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিটের স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন এবং নজরদারি আরও জোরদার করতে পারলে অবৈধ প্রাণীর চোরাচালান ও ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

0%
0%
0%
0%