AdvertisementAdvertisement

তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের কারিগরি সহায়তার প্রস্তাব ভূরাজনীতি ও কৌশলী কূটনীতির মুখে

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নতুন করে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। প্রকল্পের সমীক্ষা, নকশা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন—প্রতিটি পর্যায়ে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে বেইজিংয়ের এই প্রস্তাবকে বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন সম্ভাবনার দুয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন, বাংলাদেশের উত্তর জনপদের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, বাংলাদেশের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই মূলত উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এই প্রকল্পে চীন যুক্ত হতে চায়। রাষ্ট্রদূতের ভাষ্যমতে, প্রকল্পটির মাধ্যমে নদী ব্যবস্থাপনা ও জনকল্যাণই তাদের মূল লক্ষ্য। তবে বেইজিংয়ের এই সক্রিয়তা একদিকে যেমন উন্নয়নের আশা জাগিয়েছে, অন্যদিকে আঞ্চলিক ভূরাজনীতি ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ বিবেচনায় একে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেও দেখছেন বিশ্লেষকরা।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ভারত থেকে উদ্ভূত ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদীর একটি তিস্তা। সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা এই নদীর পানিবণ্টন চুক্তি দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অমীমাংসিত রয়েছে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছালেও ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আপত্তির কারণে তা আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমান তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকার তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নকে তাদের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার কৃষিখাতসহ সার্বিক অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নদীর গভীরতা বৃদ্ধি এবং প্রস্থ কমিয়ে দেড় থেকে দুই কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে। এতে নদীভাঙন রোধের পাশাপাশি শত শত একর ভূমি পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে, যা ভূমিহীনদের পুনর্বাসন কিংবা শিল্পায়নে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করবে।

তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক হুমায়ুন কবিরের মতে, তিস্তা প্রকল্পের ভবিষ্যৎ কেবল প্রযুক্তিগত সহায়তার ওপর নির্ভর করছে না। তিনি মনে করেন, চীন-ভারত ও চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতির জটিল গোলকধাঁধায় বাংলাদেশকে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে এগোতে হবে। চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় তিস্তা প্রকল্পের গুরুত্ব পাওয়ার পর থেকেই বিষয়টি কূটনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন সরকার এই বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জকে কতটা দক্ষতার সঙ্গে জাতীয় স্বার্থে কাজে লাগাতে পারে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে দেশবাসী।

0%
0%
0%
0%