AdvertisementAdvertisement

ফ্যাসিবাদের করুণ পরিণতি স্মরণে রেখে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

ফ্যাসিবাদের করুণ পরিণতির কথা মাথায় রেখে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬’ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে খুলনা বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, র‌্যাব (এসআইএফ)-এর মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান এবং পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম।

মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিগত ১৬ বছর অস্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের বীজ বপন করা হয়েছিল। রাষ্ট্রের পুরো যন্ত্র পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল। জাতীয় ও স্থানীয় সরকার—সব ধরনের নির্বাচনী কাঠামো ধ্বংস করা হয়েছিল এবং স্বৈরতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালে ছাত্রজনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পায়। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত মদদদাতা, পক্ষপাতিত্বকারী ও অংশগ্রহণকারীদের অনেকের করুণ পরিণতি আজ সবার জানা। কেউ চাকরিচ্যুত, কেউ পলাতক, কেউ কারাগারে, কেউ আইন-আদালতের মুখোমুখি। এমনকি তাদের পরিবার-পরিজনও কঠিন সময় পার করছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এসব বিষয় গভীরভাবে অনুধাবন করে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশের জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যাশা পূরণে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব আপনাদের ওপর। আসন্ন নির্বাচনে এমন একটি মানদণ্ড স্থাপন করতে হবে, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম বা ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসারসহ দায়ী সকলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি ‘কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল’ গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ সেখানে জানানো যাবে।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) কর্তৃক প্রস্তুত ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’। এই অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করা হবে।

এছাড়া নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের দ্রুত প্রবেশপত্র প্রদান, ভোটকেন্দ্রে তাদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র দ্রুত সরবরাহ ও পূর্ণ সহযোগিতা প্রদানের নির্দেশ দেন তিনি। নির্বাচনের দিন যেন উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

মতবিনিময় সভায় খুলনা বিভাগের সব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নির্বাচন কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও বিজিবির প্রতিনিধি এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, খুলনা বিভাগের নির্বাচনী প্রস্তুতি সন্তোষজনক। তিনি সাংবাদিকদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, অপতথ্য বা মিথ্যা সংবাদ ভোটের পরিবেশ বিঘ্নিত করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার (বডি ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি, ড্রোন), আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’—এই তিনটি বিষয় এবারের নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

0%
0%
0%
0%