গ্যাস সংকটে শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন বিপর্যয় বন্ধের পথে অনেক কারখানা

তীব্র গ্যাস-সংকটের জেরে দেশের শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে। জ্বালানির নিম্নচাপের কারণে গাজীপুরের কোনাবাড়ী জেলখানা রোড এলাকার শামসুল আল আমিন গ্রুপের ফুয়াদ স্পিনিং মিলস গত শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে। শুধু এই একটি কারখানা নয়, গত দুই সপ্তাহ ধরে চলমান গ্যাসের তীব্র সংকট গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের শিল্প খাতে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
গাজীপুরের প্রায় ২ হাজার ১৭৬টি পোশাক কারখানার পাশাপাশি সহস্রাধিক নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান বর্তমানে গ্যাসনির্ভর। জেলা শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্যাসস্বল্পতার কারণে জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফেব্রিক, শিশির নিটিংড, টিএমএসএস অ্যাপারেলস ও তালাশ ফ্যাশনসহ অন্তত ১৭টি কারখানার ডাইং সেকশন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এছাড়া মীর সিরামিকস ও আরএকে সিরামিকসের মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনও আংশিকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
উদ্যোক্তাদের তথ্যানুযায়ী, অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। গাজীপুরের খান গ্রুপের কারখানায় প্রতিদিনের গড় উৎপাদন ৫০ হাজার পিস থেকে কমে বর্তমানে ৩০ থেকে ৩৫ হাজারে নেমেছে। উৎপাদন সচল রাখতে অনেক প্রতিষ্ঠান ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যার ফলে জ্বালানি খাতে মাসিক ব্যয় ২০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। নরসিংদীর টেক্সটাইল ও ডাইং কারখানাগুলোতেও পরিস্থিতি নাজুক। ভূঁইয়া টেক্সটাইল অ্যান্ড ক্যালেন্ডার মিলসের মতো অনেক কারখানা প্রয়োজনীয় ১০ পিএসআই চাপের বিপরীতে মাত্র ১ থেকে ২ পিএসআই গ্যাস পাচ্ছে, যা উৎপাদন প্রক্রিয়ার জন্য অপর্যাপ্ত।
পেট্রোবাংলা ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কক্সবাজারের মহেশখালীতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ড ঘটলে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। যদিও সামিটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় অর্থাৎ দিনে প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে, তবুও সামগ্রিক চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। এক্সিলারেট এনার্জি তাদের টার্মিনাল মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নেতৃবৃন্দ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে মূল্যছাড়ের শর্ত মানতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে আকাশপথে পণ্য পাঠাতে হলে ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে, যা অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য অসহনীয় আর্থিক চাপ তৈরি করবে। উদ্যোক্তারা দ্রুত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, অন্যথায় শিল্প খাতে বড় ধরনের ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা করছেন তারা।
