চার মাসে এক লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা, অর্থনীতির ভঙ্গুর দশা নিয়ে সংসদে উদ্বেগ

বর্তমান সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র চার মাসের ব্যবধানে দেশের অর্থনীতি আরও এক লাখ কোটি টাকার ঋণের ভারে নুয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং এনসিপি নেতা আখতার হোসেন। বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৫তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের মোট ঋণের পরিমাণ ২৩ লাখ কোটি টাকা থাকলেও বর্তমানে তা ২৪ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অর্থনীতির বর্তমান ভঙ্গুর অবস্থার জন্য পূর্ববর্তী সরকারের আমলের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে তিনি বলেন, শ্বেতপত্রে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের তথ্য উঠে এসেছে, যা দেশের অর্থনীতিকে এক প্রকার অন্তঃসারশূন্য করে তুলেছে। ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতার বিষয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, খেলাপি ঋণের যাঁতাকলে পড়ে দেশের আর্থিক খাত স্থবির হয়ে পড়েছে। এমনকি আইনগত জটিলতার কারণে সংসদের দুইজন সদস্য এখনও শপথ নিতে পারেননি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মুদ্রাস্ফীতি ১০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে বলে আখতার হোসেন উল্লেখ করেন। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৪ শতাংশের সামান্য বেশি থাকা সত্ত্বেও সরকার যে বাজেট প্রস্তাব করেছে, তাকে তিনি অবাস্তব বলে অভিহিত করেন। সরকার দাবি করছে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণাধীন রয়েছে, কিন্তু বাজেটের আগেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণের বিষয়ে সরকারের অনীহা ও সংস্কারের অভাব নিয়ে তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। এনবিআরের নীতি ও ব্যবস্থাপনা পৃথক করার অধ্যাদেশ কার্যকর না করায় সরকারের দূরদর্শিতার অভাব প্রকাশ পেয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া, ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ১৮ ধারার সুযোগ নিয়ে আগের মালিকদের লুটপাট ও অর্থ পাচারের পরও পুনরায় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি সরকারের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন।

বিজ্ঞাপন

সবশেষে প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে তিনি চরম সংশয় প্রকাশ করেন। এনবিআরের বর্তমান সক্ষমতা ও অতীত রেকর্ড বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা সম্পূর্ণ অবাস্তব। বাস্তবসম্মত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা না থাকায় শেষ পর্যন্ত বাজেট ঘাটতি আরও প্রকট হয়ে উঠবে এবং এর দায়ভার শেষ পর্যন্ত দেশের সাধারণ জনগণের ওপরই বর্তাবে বলে তিনি সতর্ক করে দেন।

সম্পর্কিত- বাজেট বিএনপি
0%
0%
0%
0%