উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমের পদত্যাগ: প্রধান উপদেষ্টার কাছে দায়িত্ব ছাড়লেন দুই তরুণ উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের দুই তরুণ উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমের পদত্যাগ করেছেন। বুধবার সন্ধ্যায় তারা প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
৩০ বছর বয়সেই উপদেষ্টা হয়ে দায়িত্ব পালন করা এ দুই তরুণ জুলাই গণআন্দোলনের সময় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মাত্র ১৬ মাসের মধ্যেই তাদের উপদেষ্টা হিসেবে যাত্রার ইতি ঘটল।
পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা তাদের প্রশংসা করেন। বলেন,
“জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়ে তোমরা যেভাবে জাতিকে ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তির পথে এনেছ—তা জাতি মনে রাখবে।”
তিনি দুইজনের ভবিষ্যৎ পথচলায় সফলতা কামনা করেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব জানান, উপদেষ্টা পরিষদে বর্তমানে সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ জন। যেসব চারটি মন্ত্রণালয় শূন্য হয়েছে, সেখানে নতুন কাউকে নেওয়ার সম্ভাবনা কম। বিদ্যমান উপদেষ্টাদের মধ্যেই দায়িত্ব বণ্টন করা হবে।
বিদায় সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ
পদত্যাগের আগে সচিবালয়ে বিদায়ী সংবাদ সম্মেলন করেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। সেখানে দায়িত্ব পালনকালে তার বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি।
তিনি বলেন,
“অনেক ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে। অনেক কিছুই হয়তো বলা যায় না।”
তাকে ঘিরে যেসব দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল, সেগুলোকে “অতিরঞ্জিত সংবাদ” বলে দাবি করেন আসিফ।
তার ভাষায়—
“আমি কাউকে অনিয়ম বা দুর্নীতি করার সুযোগ দেইনি। আমার টিমেও কেউ জড়িত নয়। তাই আমি নিজেই দুদকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি অধিকতর অনুসন্ধানের জন্য।”
কুমিল্লায় একটি সরকারি প্রকল্পে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রকল্পটি এখনো অনুমোদিতই হয়নি। তাই অভিযোগ ভিত্তিহীন।
রাজনীতিতে আগ্রহ—কিন্তু দল ও এলাকা এখনো চূড়ান্ত নয়
আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেন আসিফ মাহমুদ। তবে কোন দল বা কোন এলাকা থেকে নির্বাচন করবেন—তা প্রকাশ করতে চাননি এখনই।
তার বক্তব্য—
“আমি নির্বাচন করব—এটা স্পষ্ট। কিন্তু কোন দল থেকে, কোন আসন থেকে—সেটা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যারা গণঅভ্যুত্থানে আমার সহযোদ্ধা ছিলেন তারা একটি দল করেছে, তবে এটাও ধরে নেয়া ঠিক হবে না যে আমি সেই দলেই যোগ দেব।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, কয়েক দিনের মধ্যে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
মাহফুজ আলমও নির্বাচন করবেন বলে ধারণা
তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এদিন সচিবালয়ে আসেননি এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি। তবে সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে—তিনি-ও আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
পদত্যাগের মধ্যেও দুই তরুণের প্রতি কৃতজ্ঞতা
জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ—আর তারপর অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন—এই দুই ছাত্রনেতার রাজনৈতিক যাত্রা ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। তাদের পদত্যাগ গ্রহণের সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন—
“তোমরা যে সাহস, সততা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছো—তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।”
