মেহেরপুর ও নওগাঁ সীমান্তে বিএসএফের অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করল বিজিবি ও এলাকাবাসী

মেহেরপুর ও নওগাঁ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পক্ষ থেকে জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ বা ‘পুশ ইন’ করার একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত প্রতিরোধ ও বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
শনিবার ভোরে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তের ১৪০/৫ এস আন্তর্জাতিক পিলারের কাছে ছয়জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায় বিএসএফ। স্থানীয় সূত্র ও বিজিবির ভাষ্যমতে, কাঁটাতারের বেড়ার একটি অংশ খুলে দুই পুরুষ, দুই নারী, এক বৃদ্ধ ও এক শিশুসহ ছয়জনকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়। তবে বিজিবি ও গ্রামবাসীদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে তারা ব্যর্থ হয়। বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা সীমান্ত রেখার শূন্য অবস্থানে রয়েছেন এবং তাদের ফিরিয়ে নিতে বিজিবির পক্ষ থেকে বারবার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
তেঁতুলবাড়ীয়া বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার হাবিবুর রহমান জানান, বিজিবি হ্যান্ড মাইকে বিএসএফকে সতর্ক করে অবৈধ অনুপ্রবেশের যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছে। বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। সীমান্তে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি নিরবচ্ছিন্নভাবে টহল পরিচালনা করছে।
অন্যদিকে, নওগাঁর সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে ২৩৮/এমপি পিলারের কাছে ১৭ জনকে অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিজিবির নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, টানা ১৯ ঘণ্টা প্রতিরোধের পর শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে বিএসএফ ওই ১৭ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
ওই ১৭ জনের দলে ছয়জন পুরুষ, ছয়জন নারী ও পাঁচটি শিশু ছিল। বিএসএফ তাদের বাংলাদেশি হিসেবে দাবি করলেও পতাকা বৈঠকে এ সংক্রান্ত কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বিএসএফ সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের জোরাজুরি করে সরিয়ে নেওয়ার সময় তাদের আর্তনাদ শোনা যায়। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি ওই এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ প্রবেশ রুখতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
