কোরবানির ঈদে ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮১ জনের প্রাণহানি মোটরসাইকেলের আধিক্য উদ্বেগজনক

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে যাতায়াতের চরম ভোগান্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মাঝে গত ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৮১ জন। এর মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা যথাক্রমে ৩৪ ও ৪৮ জন। এ সময়ের ব্যবধানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ২৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৮৩৭ জন। দেশের ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এই ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাগুলো এবার দুর্ঘটনার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোট দুর্ঘটনার ৪৮ দশমিক ২৮ শতাংশই ছিল মোটরসাইকেল সংক্রান্ত। ১৪১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১২৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, যা মোট নিহতের ৪৪ দশমিক ১২ শতাংশ। এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে ৩৭ জন পথচারী এবং ৩৩ জন যানবাহন চালক ও তাদের সহকারী রয়েছেন।
সড়কপথের পাশাপাশি ঈদযাত্রায় নৌ ও রেলপথও নিরাপদ ছিল না। ১৩টি নৌপথ দুর্ঘটনায় ৮ জনের প্রাণহানির পাশাপাশি কোরবানির পশুবাহী নৌকায় থাকা ২৪টি গরু মারা গেছে। এছাড়া ২২টি রেলপথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৭ জন এবং আহত হয়েছেন ৯ জন। সড়ক দুর্ঘটনার প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১২৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে, যা মোট ঘটনার ৪৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এছাড়া মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ৭৩টি।
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ৫০৭টি, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৫৭টি মোটরসাইকেল। বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে ছিল, যেখানে ৯৫টি দুর্ঘটনায় ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিপরীতে সিলেট বিভাগে ৯টি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে ফরিদপুরে সর্বোচ্চ ১৯টি দুর্ঘটনায় ২৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, যা ঈদযাত্রার নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।