ট্যানারি স্থানান্তর যথাযথ ছিল শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত

রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি শিল্প স্থানান্তরের মূল সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল বলে মন্তব্য করেছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, স্থানান্তরের প্রক্রিয়াটি ছিল চরম অব্যবস্থাপনাপূর্ণ ও অপরিকল্পিত, যার ফলে এই খাতের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং মাঝপথে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার দুপুরে সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের হরিণধরা এলাকায় বিসিক ট্যানারি পল্লীর বর্জ্য শোধনাগার বা সিইটিপি পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী জানান, উচ্চমাত্রার বর্জ্য উৎপন্নকারী ট্যানারি শিল্পের জন্য আধুনিক বর্জ্য শোধনাগার সংবলিত স্থানই উপযুক্ত। হাজারীবাগ থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত যথার্থ হলেও ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির কারণে অনেক ট্যানারি মালিক টিকে থাকতে পারেননি। বর্জ্য শোধনাগারের যে নির্ধারিত সক্ষমতা ছিল, তা কার্যকর করতে এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর সংকট নিরসনে সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।

চামড়া খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার কেবল কাঁচা চামড়া রপ্তানির পরিবর্তে চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির ওপর গুরুত্বারোপ করছে। কাঁচা চামড়া থেকে জুতা, ব্যাগ বা বেল্টের মতো পণ্য তৈরির প্রক্রিয়ায় যে ভ্যালু অ্যাডিশন বা বাড়তি মূল্য সংযোজন হয়, তা দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে দেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ট্যানারি খাতে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার বিষয়ে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, হাজারীবাগ থেকে স্থানান্তরের সময় যেসব প্রতিষ্ঠান ঝরে পড়েছিল বা দায়দেনার কারণে লোকসানী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, সেগুলোকে পুনরায় লাভজনক করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যারা ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা ও আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন, তাদের জায়গায় নতুন বিনিয়োগকারী আনার বিষয়ে সরকার কাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

বর্জ্য শোধনাগার সংস্কারের বিষয়ে তিনি জানান, সিইটিপির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য খুব শিগগিরই একটি ইতালীয় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। সেই রিপোর্টের সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে শোধনাগারটি পুনরায় তার পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরে আসতে পারে এবং এই শিল্প খাত ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

সম্পর্কিত- ট্যানারি
0%
0%
0%
0%