বাধ্যতামূলক অবসরে পুলিশের ১৭ শীর্ষ কর্মকর্তা

জনস্বার্থে বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের ১৬ জন উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এবং একজন অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। রোববার (৩ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানানো হয়, যা পুলিশ প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও গতিশীলতা আনয়নের একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী জনস্বার্থে এই কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠানো হয়েছে। তবে, অবসরে পাঠানো সকল কর্মকর্তা বিধি মোতাবেক তাঁদের প্রাপ্য সকল অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ, সিআইডির ডিআইজি মোঃ হাবিবুর রহমান, পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি সালেহ্ মোহাম্মদ তানভীর (বর্তমানে এনডিসি কোর্সে প্রশিক্ষণরত) এবং এনএসআইর পরিচালক (ডিআইজি পদমর্যাদা) মোঃ হারুন-অর-রশীদ। এই তালিকায় আরও আছেন পুলিশ স্টাফ কলেজের ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামান, পিটিসি নোয়াখালীর কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি) মোঃ হায়দার আলী খান এবং পিটিসি খুলনার কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি) মোঃ মাহবুবুর রহমান ভূইয়া।
অন্যান্য পদাধিকারীদের মধ্যে রয়েছেন ট্যুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি মোঃ রুহুল আমিন, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মোঃ রফিকুল হাসান গনি, নৌ-পুলিশের ডিআইজি মোঃ মিজানুর রহমান এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার (সিআইডিতে বদলির আদেশপ্রাপ্ত) মোঃ মজিদ আলী। এছাড়াও, পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি (স্টাফ কলেজে বদলির আদেশপ্রাপ্ত) কাজী জিয়া উদ্দিন, রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি মোঃ গোলাম রউফ খান, পিটিসি রংপুরের কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি) শেখ মোহাম্মদ রেজাউল হায়দার এবং হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি রখফার সুলতানা খানমকেও অবসরে পাঠানো হয়েছে। রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) ফারহাত আহমেদও এই পদক্ষেপের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্যমতে, পুলিশ প্রশাসনে সুশাসন ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক কাঠামোতে গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যেই জনস্বার্থে সরকার এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।