ওয়েস্ট হামে মানর সলোমনের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও সমর্থক বিভাজন

টটেনহ্যাম হটস্পার থেকে ওয়েস্ট হাম ইউনাইটেডে যোগ দিয়ে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছেন ইসরায়েলি উইঙ্গার ম্যানর সলোমন। সাতাইশ বছর বয়সী এই ফুটবলারকে দলে ভেড়াতে লন্ডনভিত্তিক ক্লাবটিকে প্রাথমিক চুক্তিতে ৫ মিলিয়ন পাউন্ড বা প্রায় ৬.৭৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করতে হয়েছে, যার পরিমাণ ভবিষ্যতে ৭ মিলিয়ন পাউন্ড বা ৯.৪৫ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে পারে। মাঠের পারফরম্যান্স বিবেচনায় সলোমনকে দলে নেওয়া ওয়েস্ট হামের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে হলেও, গাজায় ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডের সমর্থনে তার সোচ্চার ভূমিকা ক্লাবটির সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বিভাজন সৃষ্টি করেছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, খেলোয়াড় হিসেবে সলোমন অতীতে তার দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। শাখতার দোনেৎস্কের হয়ে দুটি ইউক্রেনীয় লিগ শিরোপা জয় এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে গোল করার কৃতিত্ব রয়েছে তার। গত ২০২৪-২৫ মৌসুমে লিডস ইউনাইটেডের হয়ে ৩৯টি লিগ ম্যাচে ১০টি গোল এবং ১২টি অ্যাসিস্ট করে তিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। তবে মাঠের সাফল্যের চেয়ে বর্তমানে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েই বেশি আলোচনা চলছে।

গাজায় চলমান সংঘাত নিয়ে সলোমনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কার্যক্রম ওয়েস্ট হাম সমর্থকদের একটি বড় অংশকে ক্ষুব্ধ করেছে। বিশেষ করে 'অল আইজ অন রাফাহ' ট্রেন্ডের বিপরীতে তার করা মন্তব্য এবং ইসরায়েলি বন্দিদের পক্ষে প্রচারণা চালানোর বিষয়টি অনলাইনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে স্প্যানিশ ক্লাব ভিয়ারিয়ালে যোগ দেওয়ার সময়ও তাকে নিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, যেখানে সমর্থকদের একাংশ ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শন করে এবং তাকে বয়কটের ডাক দিয়ে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।

ওয়েস্ট হাম সমর্থকদের মধ্যে এই নিয়োগ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের সমর্থক ক্যালাম গর্ডন মনে করেন, রাজনীতি এবং ফুটবলকে আলাদা রাখা উচিত এবং সলোমনের মাঠের পারফরম্যান্সের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, ইয়োলা রাইট নামের আরেক সমর্থকের মতে, সলোমনের মন্তব্য গাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যা ক্লাবের অভ্যন্তরীণ ঐক্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীতে যোগদানের অতীত ইতিহাস নিয়ে সমালোচকদের মধ্যে ক্ষোভের মাত্রা অনেক বেশি।

ফিলিস্তিনের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য মতে, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গাজায় অন্তত ১,০০৭ জন ক্রীড়াবিদ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ফুটবলারের সংখ্যা ৫৬৫ জন। গাজার ক্রীড়া সাংবাদিক আবুবাকের আবেদের অভিযোগ, ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর এই ধরনের সিদ্ধান্ত তথাকথিত ‘নির্বাচনী নৈতিকতা’ এবং দ্বিমুখী নীতির পরিচায়ক। যদিও সলোমন বা ওয়েস্ট হাম কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবুও ফুটবল মাঠের এই বিতর্ক যে সহজে থামছে না, তা স্পষ্ট।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

০%
০%
০%
০%