গাজা সংকট নিরসনে ইসরায়েল ও মিশরে কুশনারের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু

গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে তৈরি শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহে ইসরায়েল ও মিশর সফরে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার। আল জাজিরার প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আপত্তির মুখে পড়ে ভেস্তে যাওয়া শান্তি প্রক্রিয়াকে পুনরুজ্জীবিত করাই এই সফরের মূল লক্ষ্য। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে ইসরায়েলের অনড় অবস্থান নিরসনে তিনি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

কুশনারের সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন ‘বোর্ড অব পিস’-এর মহাপরিচালক ও বুলগেরিয়ার সাবেক মন্ত্রী নিকোলাই ম্লাদেনভ এবং কমিটির নির্বাহী সদস্য ও যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। শান্তি বোর্ডের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ত্রিপক্ষীয় এই প্রতিনিধি দল ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের জায়গাগুলো শুনবেন এবং সংকট উত্তরণে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন। যদিও গাজাকে নিরস্ত্রীকরণের চূড়ান্ত লক্ষ্যের বিষয়ে ইসরায়েল ও বোর্ডের মধ্যে নীতিগত ঐকমত্য রয়েছে, তবুও মাঠ পর্যায়ের বাস্তবায়ন নিয়ে রয়ে গেছে তীব্র মতপার্থক্য।

২০২৫ সালের শেষদিকে স্বাক্ষরিত ২০ দফার যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, গাজায় সংঘাত থামিয়ে হামাসের অস্ত্র ত্যাগ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর সরে আসার কথা ছিল। তবে চুক্তি বাস্তবায়নের পথে ইসরায়েলের ক্রমাগত লঙ্ঘন পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় অন্তত ১,২৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর পরবর্তী সংঘাতে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৩,৩৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে এবং বর্তমানে উপত্যকার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নাবলুস গভর্নরেটের কুসরা গ্রামে বসতি স্থাপনকারীদের অবরোধের ফলে স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা পানি ও বিদ্যুৎহীন অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবিও এই সহিংসতার নিন্দা জানাতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বসতি স্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডকে জঘন্য ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ৩,০৩৩টি বসতি স্থাপনকারী হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা প্রতিদিন গড়ে ছয়টি হামলার সমতুল্য। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ এই বসতি স্থাপনের সাথে জড়িতদের কারণে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১৮ জন শিশুসহ মোট ৭৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। কুশনারের আসন্ন সফরে গাজার যুদ্ধবিরতি আলোচনার পাশাপাশি পশ্চিম তীরের এই ক্রমবর্ধমান অস্থিরতাও গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

০%
০%
০%
০%