আতা পাতা লাপাতা সিনেমার আর্থিক সংকটে সুপ্রিম কোর্টের কঠোর নির্দেশ পেলেন রাজপাল যাদব

চেক বাউন্স মামলায় আগামী ১৩ অক্টোবরের মধ্যে ২ কোটি টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জনপ্রিয় অভিনেতা রাজপাল যাদবকে

বলিউডের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা রাজপাল যাদবের আর্থিক জটিলতা কাটছে না কিছুতেই। বুধবার সুপ্রিম কোর্ট এক নির্দেশনায় অভিনেতা রাজপাল যাদবকে চেক-বাউন্স মামলায় অভিযোগকারীর প্রাপ্য দুই কোটি টাকা আগামী ১৩ অক্টোবরের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ের পর থেকেই বলিপাড়ায় শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। আদালত জানিয়েছে, বকেয়া অর্থ পুরোপুরি পরিশোধ করার পরেই কেবল হাইকোর্টের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে যাদবের করা আবেদনটি বিচেনায় নেওয়া হবে।

এএনআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই শুনানির দিন আদালতে সশরীরে হাজির ছিলেন অভিনেতা রাজপাল যাদব। এ সময় তিনি আদালতে ১.১৫ কোটি টাকার একটি ডিমান্ড ড্রাফট সঙ্গে নিয়ে আসেন। বাকি ৮৫ লক্ষ টাকা আগামী ১৩ অক্টোবরের মধ্যে তাঁর সম্পত্তির একজন ক্রেতার মাধ্যমে পরিশোধ করার কথা রয়েছে, যিনি স্বয়ং অভিনেতার সঙ্গে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। শুনানিকালে রাজপালের আইনজীবী আদালতকে জানান যে, অভিনেতা বনিবনা অনুযায়ী টাকা পরিশোধের জন্য রেজিস্ট্রির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, কিন্তু আরটিজিএস অনুমোদিত না থাকায় তিনি ১.১৫ কোটি টাকার ডিমান্ড ড্রাফট নিয়ে হাজির হতে বাধ্য হয়েছেন।

শুনানি শেষে বেঞ্চের সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতায় অংশ নেন অভিনেতা। ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর নিজস্ব পরিচালনায় নির্মিত ‘আতা পাতা লাপাতা’ চলচ্চিত্রটির কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরেন তিনি। রাজপাল দাবি করেন, ওই একটিমাত্র ছবির কারণে তাঁর প্রায় দুই থেকে আড়াইশ কোটি টাকার বিশাল লোকসান হয়েছিল এবং এর সঙ্গে জড়িত প্রযোজকরাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে ভারতের প্রধান বিচারপতি রসিকতা করে মন্তব্য করেন যে, চলচ্চিত্রটির শিরোনামের সঙ্গে যেন যাদবের বর্তমান আর্থিক অবস্থার নিখুঁত মিল রয়েছে, যেখানে তাঁর অর্থও ছবির নামের মতো ‘আতা পাতা লাপাতা’ হয়ে গেছে। পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে রাজপাল যাদব দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি তাঁর সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার কথা জানান এবং আদালতের যে কোনো সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘আতা পাতা লাপাতা’ চলচ্চিত্রের জন্য মুরলি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড কর্তৃক রাজপাল যাদবকে প্রদান করা একটি কথিত ঋণকে কেন্দ্র করেই এই দীর্ঘ আইনি লড়াই ও মামলার সূত্রপাত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১.০৫ কোটি টাকার সাতটি পরিশোধ চেক ব্যাংকে প্রত্যাখ্যাত হলে মামলা গড়ায় আদালত পর্যন্ত। অভিনেতা নিজে দাবি করেছেন যে, চলচ্চিত্রটির সঙ্গে সম্পর্কিত ৫ কোটি টাকার দায় থেকেই মূলত এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে, অথচ তাঁর নির্মিত ওই চলচ্চিত্রটি এর চেয়ে বহুগুণ বেশি আর্থিক ক্ষতি ডেকে এনেছিল তাঁর জীবনে।

০%
০%
০%
০%