মধুপুরে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ৮০ হেক্টর জমির ফসল লন্ডভন্ড

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে আঘাত হানা হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে প্রায় ৮০ হেক্টর জমির কলা, আনারস, পেঁপে ও সবজির বাগান লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। মাত্র কয়েক মিনিটের প্রবল বাতাসে মুহূর্তের মধ্যে শত শত কৃষকের কষ্টের ফসল মাটিতে লুটিয়ে পড়ায় তারা এখন গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছেন।

উপজেলার শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় আকস্মিক এই ঝড় তাণ্ডব চালায়। ঝড়ের তীব্রতায় কোথাও ক্ষেতের কলাগাছ মাঝখান থেকে ভেঙে পড়েছে, আবার কোথাও শিকড়সহ পুরো গাছ উপড়ে গেছে। এর পাশাপাশি মাঠের পাকা আনারস, পেঁপে এবং বিভিন্ন শীতকালীন ও বারোমাসি সবজির ক্ষেতও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ কয়েক মাসের কঠোর পরিশ্রম, ঋণ ও জমানো পুঁজি বিনিয়োগ করে তারা এসব বাগান গড়ে তুলেছিলেন। ঠিক যখন ফসল কেটে বাজারে বিক্রি করার সময় ঘনিয়ে এসেছিল, তখনই এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় তাদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিল। আকস্মিক এই ঝড়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দ্রুত বাগান পরিদর্শন করে পুনরায় চাষাবাদ শুরু করার জন্য সহজ শর্তে ঋণ, প্রণোদনা এবং প্রয়োজনীয় কৃষি-প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেওয়ার জোড়ালো আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম জানান, দুপুরে হঠাৎ বয়ে যাওয়া ঝড়ে শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছা এলাকার প্রায় ৮০ হেক্টর জমির বাগান ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। সন্ধ্যার কারণে আজ সব এলাকায় যাওয়া সম্ভব হয়নি, তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো দ্রুত পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

০%
০%
০%
০%