বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে ২২ বছর কারাবাসের পর ফাঁসির আসামির মৃত্যু

বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রায় ২২ বছর ধরে বন্দি থাকার পর সুলতান হাওলাদার (৬৪) নামের এক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। তিনি বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

কারাগার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে ভবানীপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হুমায়ুন কবির নামের এক ব্যক্তি খুন হন। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০০৪ সালে আদালত সুলতান হাওলাদারকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। সেই থেকেই তিনি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছিলেন। দীর্ঘ কারাবাসের একপর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই বৃহস্পতিবার সকালে তার জীবনাবসান ঘটে।

এই ঘটনার একটি মর্মান্তিক দিক হলো, একই হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সুলতানের বাবা আবদুর রব হাওলাদারও প্রায় দুই বছর আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কারাবন্দি অবস্থায় মারা যান। ফলে একই মামলার জেরে বাবা ও ছেলে উভয়েরই কারাজীবন শেষ হলো মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।

বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবু ইউসুফ জানান, কারা নিয়ম অনুযায়ী মৃত বন্দির মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে, জ্যেষ্ঠ জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা জানান, সুলতান বেপারী একটি হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে বন্দি ছিলেন। তবে তার মামলার নথিপত্র ও বিস্তারিত বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে সম্পূর্ণ পাওয়া যায়নি।

০%
০%
০%
০%