দুই যুগ পেরিয়ে গেছে, তবুও টলিউডের রূপোলি পর্দায় ‘সাথী’ সিনেমার ‘বিজয়’ ও ‘সোনালী’র ম্যাজিক আজও অমলিন। ২০০২ সালে পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তীর হাত ধরে যে ইতিহাস রচিত হয়েছিল, তা আজও অগণিত বাঙালি দর্শকের হৃদয়ে এক নস্টালজিয়ার নাম। সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলেছে; প্রিয়াঙ্কা ত্রিবেদী এখন দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ব্যস্ত তারকা এবং উপেন্দ্রর ঘরনি। স্বামী-সংসার সামলে তিনি এখন মূলত দক্ষিণ ভারতেই স্থায়ী। তবে শিকড়ের টান কিংবা স্মৃতির মায়া কাটাতে পারেন না তিনি। সম্প্রতি তিলোত্তমায় পা রেখেই দীর্ঘদিনের বন্ধু তথা সহ-অভিনেতা জিতের সঙ্গে একান্ত আড্ডায় মেতে উঠলেন প্রিয়াঙ্কা।
এই পুনর্মিলনের মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন জিতের স্ত্রী মোহনা মাদনানিও। বহু বছর পর প্রিয় জুটিকে এক ফ্রেমে দেখে আবেগে ভাসছে নেটপাড়া। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই সাক্ষাতের মিষ্টি মুহূর্ত ভাগ করে প্রিয়াঙ্কা লিখেছেন, তাঁদের দুজনের সঙ্গে দেখা হওয়ার অনুভূতি দারুণ। সেই সঙ্গে এই আন্তরিক উষ্ণতা ও ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন তিনি। প্রিয়াঙ্কার শেয়ার করা এই ছবি মুহূর্তেই ফিরিয়ে নিয়ে গেছে সেই সোনালি দিনে, যখন বাংলার সিনেমাপ্রেমীরা প্রথমবার দেখেছিল জিৎ-প্রিয়াঙ্কার অনস্ক্রিন রসায়ন।
তবে এই বন্ধুত্বের যাত্রাটা শুরু থেকেই মসৃণ ছিল না। এক স্মৃতিচারণায় প্রিয়াঙ্কা জানিয়েছিলেন, ‘সাথী’র চিত্রনাট্য পড়ার সময় প্রথম পরিচয়ের দিন তাঁদের মধ্যে তেমন কোনো সখ্যতা গড়ে ওঠেনি। প্রিয়াঙ্কার কথায়, ওই সময় তিনি বড় সেটআপ ও শুটিং নিয়ে অত্যন্ত উত্তেজিত থাকলেও, জিতের সঙ্গে বন্ধুত্বের বরফ গলেনি সেটে। কিন্তু সিনেমার অভাবনীয় সাফল্যের পর বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে প্রমোশনের জন্য যখন তাঁরা একসঙ্গে ঘুরতে শুরু করলেন, তখনই একে অপরকে চেনার সুযোগ হয়। সেই থেকে শুরু হওয়া বন্ধুত্ব এতটাই মজবুত হয় যে, পরবর্তী চলচ্চিত্র ‘সঙ্গী’র সেটে তাঁরা একে অপরের ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’ হয়ে ওঠেন।
জিৎ সে সময় নতুন হলেও, কাজের প্রতি তাঁর অদম্য জেদ ও ডেডিকেশন প্রিয়াঙ্কাকে মুগ্ধ করেছিল। জিতের পরিশ্রমী মানসিকতা ও অভিনয়ের প্রতি প্যাশনই তাদের বন্ধুত্বের ভিত গড়ে দিয়েছিল। আজ ২৪ বছর পর সময়ের চাকা অনেকখানি ঘুরে গেলেও, জিৎ ও প্রিয়াঙ্কার এই সাম্প্রতিক ফ্রেমবন্দি মুহূর্ত প্রমাণ করল, রূপোলি পর্দার সেই রসায়ন কেবল সিনেমার পর্দাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা বাস্তব জীবনেও আজও সমান রঙিন ও অটুট।