দক্ষিণ ভারত এবং বলিউডের লাস্যময়ী তারকা রশ্মিকা মন্দানা ও তাঁর স্বামী বিজয় দেবরাকোন্ডার বিবাহোত্তর জীবনের প্রথম যৌথ ছায়াছবি ‘রণবলী’ আগামী ১৬ই অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। বহুল প্রতীক্ষিত এই মহাকাব্যিক সিনেমাটির মুক্তিকে ঘিরে যখন গোটা বিনোদন দুনিয়া উন্মাদনায় ভাসছে, ঠিক তখনই এক অভূতপূর্ব ও মহৎ সামাজিক উদ্যোগের ঘোষণা দিয়ে ভক্তদের হৃদয়ে এক নতুন জায়গা করে নিলেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।
পর্দায় নিজের অভিনীত ‘জয় আম্মা’ চরিত্র থেকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে রশ্মিকা ৪০০টি অসহায় পরিবারের তিন মাসের সম্পূর্ণ খাদ্য এবং প্রয়োজনীয় রেশনের সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। ইন্সটাগ্রামে নিজের টিম কর্তৃক রেশন বিতরণের একটি আবেগঘন ভিডিও শেয়ার করে তিনি জানান, প্রতি তিন মাস অন্তর চারশটি পরিবারকে এই সহায়তা প্রদান করা হবে এবং একটানা এক বছর ধরে এই মানবিক কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করা হবে। এই মহৎ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো, দরিদ্র পরিবারগুলো যাতে এই নির্দিষ্ট সময়ে নিজেদের সঞ্চয় বাড়িয়ে ভবিষ্যৎ আরও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারে।
চরিত্রের প্রভাব সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে এই তারকা বলেন, পর্দায় ফুটিয়ে তোলা কোনো কোনো চরিত্র মানুষের মনকে গভীরভাবে নাড়া দেয়, আর ‘জয় আম্মা’র সঙ্গে তাঁর বাস্তব জীবনেরও বহু মিল রয়েছে। অভিনেত্রী জানান, অক্লান্ত পরিশ্রম, বিনিদ্র রজনী এবং নানাবিধ সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে যদি অসহায় মানুষের মুখে সামান্য হাসি ফোটানো যায়, তবে জীবনের সমস্ত কষ্ট তুচ্ছ বলে মনে হয়। তাঁর টিম এই বিষয়টি গোপন রাখতে চাইলেও, কেবল অন্যকে অনুপ্রাণিত করার জন্যই তিনি জনসমক্ষে বিষয়টি প্রকাশ করেছেন বলে জানান।
পরিচালক রাহুল সংক্রান্ত্যায়নের নির্দেশনায় নির্মিত ‘রণবলী’ ছবিটি ১৮৭৬ থেকে ১৮৭৮ সালের ভয়াবহ ছিয়াত্তরের দুর্ভিক্ষের নির্মম ও ঐতিহাসিক পটভূমিতে তৈরি একটি কাল্পনিক প্রেম ও দ্রোহের গল্প। ব্রিটিশ আমলের চরম অবহেলা এবং শস্য নীতিমালার কারণে সৃষ্ট সেই অন্ধকার অধ্যায়ের পটভূমিতে নির্মিত এই ছবিতে বিজয় দেবরাকোন্ডাকে এক লড়াকু বিদ্রোহী এবং রশ্মিকাকে তাঁর সহধর্মিনী ‘জয় আম্মা’র সাহসী চরিত্রে দেখা যাবে। বড় পর্দায় এই তারকাদম্পতির অনবদ্য রসায়নের পাশাপাশি বাস্তব জীবনে রশ্মিকার এই মহৎ হৃদয়বৃত্তি গোটা বিনোদন জগতের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।