ভোলার লালমোহন উপজেলায় তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশের অভয়াশ্রমে ২২ দিনের চলমান সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরার দায়ে ৫ জেলেকে আটক করা হয়েছে।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের মধ্যে ৪ জেলের প্রত্যেককে ১৪ দিন করে জেল এবং ১০০ টাকা করে জরিমানা করেছেন। এছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক একজনকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জব্দ করা হয়েছে তাদের কাছে থাকা জাল ও ইলিশ মাছ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন লালমোহন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রেজওয়ানুল হক। এর আগে এদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. রাশেদ (২০), হযরত আলীর ছেলে মো.মোর্শেদ (২৪),আইয়ুব আলীর ছেলে মো. শামীম (১৯) ওআব্দুল মজিদের ছেলে মো. ইমরান মৃধা (২৩)।
লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমদ আখন্দ বলেন, মৎস্য বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে যৌথ অভিযানে তেঁতুলিয়া নদীতে অভিযান চালিয়ে এসব জেলেদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাদের সাজা প্রদান করেন। এছাড়া তাদের কাছ থেকে ১০ কেজি মাছ ও প্রায় ৩০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। পরে জব্দকৃত মাছ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ শেষে জাল আগুন পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ভোলা জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য মতে, বুধবার ৭ অক্টোবর দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে অর্থাৎ ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ২২ দিনের এ নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে আগামী ২৯ অক্টোবর। এর আওতায় রয়েছে ভোলার মেঘনা নদীর ইলিশা থেকে চরপিয়াল পর্যন্ত ৯০ কিলোমিটার ও তেতুলিয়া নদীর ভেদুরিয়া থেকে চররুস্তম পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার।
এছাড়া দেশে ইলিশের ৬টি অভয়াশ্রমের মধ্যে দুটিই রয়েছে ভোলায়। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ইলিশের অভয়াশ্রমে মাছ ধরা ক্রয় বিক্রয় মজুত ও পরিবহন দণ্ডনীয় অপরাধ।