শারদীয় দুর্গাপূজা অধিকতর নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষে আয়োজক কমিটি ও দর্শনার্থীদের জন্য পাঁচটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। বুধবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এক প্রজ্ঞাপনে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। দেশের সর্ববৃহৎ এই ধর্মীয় উৎসবটি যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই উদযাপিত হতে পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এই আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিশেষ কিছু নির্দেশনা মানার ওপর জোর দিয়েছে পুলিশ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো ঘটনার সত্যতা যাচাই না করে বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে, কোনো তথ্য ভালোভাবে যাচাই না করে তা লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া, অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থেকে আজান ও নামাজের সময় মসজিদসংলগ্ন পূজামণ্ডপে এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় শব্দযন্ত্রের ব্যবহার সীমিত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই সময়ে সব ধরনের আতশবাজি ও পটকা ফোটানো থেকেও বিরত থাকার কড়া নির্দেশনা রয়েছে।
পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু অবকাঠামোগত ও লজিস্টিক প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নারী ও পুরুষ দর্শনার্থীদের জন্য পৃথক প্রবেশ ও প্রস্থানের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা। নিরাপত্তার স্বার্থে মণ্ডপে কোনো ধরনের ব্যাগ, থলে বা পোঁটলা নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি, গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে আর্চওয়ে গেট স্থাপন, মণ্ডপ ও প্রতিমা বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য জেনারেটর বা আইপিএসের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মণ্ডপের নিজস্ব নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের সহজে শনাক্তকরণের সুবিধার্থে তাদের জন্য নির্দিষ্ট পোশাক, দৃশ্যমান পরিচয়পত্র এবং ‘স্বেচ্ছাসেবক’ লেখা আর্মব্যান্ড ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে প্রতিমা বিসর্জনের ক্ষেত্রে প্রশাসন নির্ধারিত রুট কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। একমাত্র স্থানীয় প্রশাসনের নির্দিষ্ট করা স্থানগুলোতেই বিসর্জন কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ।