অ্যাডাল্টস সিরিজের সাফল্যে অমিতা রাও এবং পর্দার বাইরের বাস্তব জীবন

টেলিভিশনের পর্দায় তিনি অপ্রতিরোধ্য, কিছুটা বেপরোয়া আর অসম্ভব প্রাণবন্ত এক তরুণী—‘ইসা’। এফএক্সের সাড়া জাগানো জেনারেশন জেড কমেডি সিরিজ ‘অ্যাডাল্টস’-এর দ্বিতীয় মৌসুমে এই চরিত্রেই মাত করছেন ২৭ বছর বয়সী মেধাবী অভিনেত্রী ও কৌতুকশিল্পী অমিতা রাও। তবে পর্দার ইসার সঙ্গে বাস্তব জীবনের অমিতা রাওয়ের বিস্তর ফারাক। বাস্তবের অমিতা শান্ত, গভীর এবং শিল্পসত্তায় নিমগ্ন একজন মানুষ। অথচ দর্শকের কাছে তিনি ইসা নামেই পরিচিত। খ্যাতির বিড়ম্বনায় অনেকে যখন তাঁকে ইসা ভেবে ভুল করেন, তখন অমিতা তা হাসিমুখেই গ্রহণ করেন। তাঁর মতে, অভিনেতা অনেক সময় ভক্তদের কল্পনার ক্যানভাসে পরিণত হন, আর সেই অভিজ্ঞতাকে তিনি অভিনয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই দেখেন।
সিরিজটির দ্বিতীয় মৌসুমে ইসা, পল বেকার ও অ্যান্টনের মধ্যকার সম্পর্কের জটিল সমীকরণ দর্শকদের নতুন করে ভাবাচ্ছে। পল বেকার চরিত্রে জ্যাক ইনানেন এবং অ্যান্টনের ভূমিকায় ওউয়েন থিয়েলের অভিনয় সিরিজটিতে নিয়ে এসেছে এক অনন্য মাত্রা। তবে অমিতা রাওয়ের কাছে এই প্রেমের ত্রিভুজের চেয়েও ইসা ও অ্যান্টনের মধ্যকার বন্ধুত্বের টানাপোড়েন অনেক বেশি শৈল্পিক। পর্দার পেছনের রসায়নটা যে এত জীবন্ত, তার নেপথ্যে রয়েছে শুটিং শুরুর আগে সহশিল্পীদের সঙ্গে কাটানো সেই সোনালি দিনগুলো। প্রযোজনা সংস্থা এফএক্সের বদৌলতে শুটিংয়ের মাসখানেক আগে থেকেই তাঁরা একসঙ্গে থেকেছেন, আড্ডা দিয়েছেন, এমনকি রীতিমতো পার্টি করে গড়ে তুলেছেন এক গভীর বন্ধন। ওউয়েন থিয়েলে এবং মালিক এলাসালের সঙ্গে তাঁর এই বন্ধুত্ব পর্দার রসায়নকে করেছে আরও সাবলীল।
একজন দক্ষ কমেডিয়ান ও লেখক হিসেবে অমিতা শুরু থেকেই চেয়েছেন অভিনয়ের গণ্ডিতে নিজের স্বকীয়তার ছাপ রাখতে। তিনি কেবল স্ক্রিপ্ট পড়ে যাননি, বরং প্রতিটি দৃশ্যে নিজস্ব ছন্দ ও অভিনয়ের শৈল্পিক কৌশল যোগ করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। নিজের কমেডি তৈরির দিনগুলোর সঙ্গে টেলিভিশনের প্রথাগত কাজের কাঠামোর পার্থক্যটা তিনি বেশ ভালোভাবেই বোঝেন। তবে যখনই কোনো সহশিল্পীর সঙ্গে অভিনয়ের রসায়নটা জমে ওঠে, অমিতা খুঁজে পান তাঁর কাজের প্রকৃত জাদু। তাঁর কাছে অভিনয় শুধু পেশা নয়, বরং মানুষের সঙ্গে আত্মার সংযোগ স্থাপনের এক শক্তিশালী মাধ্যম।
ভার্জিনিয়ায় বেড়ে ওঠা অমিতা রাওয়ের অভিনয়ের হাতেখড়ি সেই কিন্ডারগার্টেন থেকেই। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই আজিজ আনসারি কিংবা আলি ওংয়ের মতো কৌতুকশিল্পীদের কাজ মুখস্থ করে বন্ধুদের সামনে পরিবেশন করতেন তিনি। সেই শখ যে একসময় পেশাদার জীবনের মূল শক্তিতে পরিণত হবে, তা হয়তো তখনই টের পেয়েছিলেন। যদিও ২৩ বছর বয়সে ‘স্যাটারডে নাইট লাইভ’-এর শোকেসে সুযোগ পাওয়ার পরবর্তী সময়টা ছিল সংগ্রামের। টানা এক বছর অডিশন দিয়েও ব্যর্থতার গ্লানি সইতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু দমে যাননি। কঠিন সেই সময় পেরিয়ে আজ তিনি টেলিভিশন জগতের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র।
পর্দার বাইরের অমিতা রাওয়ের জগতটা বড্ড নিভৃত। ব্যস্ত শুটিংয়ের ফাঁকে তিনি খুঁজে বেড়ান পানির সান্নিধ্য। কোনো হ্রদের পাড়ে বসে বই পড়া, স্কেচপ্যাডে ছবি আঁকা কিংবা প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে সাঁতার কাটাই তাঁর কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় বিলাসিতা। জীবনের সমস্ত ক্লান্তি ধুয়ে ফেলতে পানির শীতলতা যেন তাঁর কাছে এক পরম আশ্রয়। একজন সৃজনশীল শিল্পী হিসেবে তিনি বিশ্বাস করেন, নিজের ভেতরকার স্বচ্ছতা বজায় থাকলে তবেই অভিনয়ে প্রাণ সঞ্চার করা সম্ভব। আর সেই স্বচ্ছতা ও শিল্পের প্রতি গভীর অনুরাগের কারণেই আজ তিনি হয়ে উঠেছেন বর্তমান প্রজন্মের এক আইকন।
