অভিনয়ে সাফল্যের শিখরে ইসরাত অতিথি ও এসএসসি পরীক্ষায়ও জয়জয়কার

ছোটপর্দার বর্তমান সময়ের সম্ভাবনাময়ী মুখ ইসরাত অতিথি। সাবলীল অভিনয় আর প্রাণবন্ত উপস্থিতি দিয়ে খুব অল্প সময়েই দর্শকদের মনে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন এই তরুণী। বিশেষ করে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘এটা আমাদেরই গল্প’-এ ‘ফারহানা’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি পেয়েছেন আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা। অভিনয়ে ব্যস্ততার পাশাপাশি পড়াশোনাতেও যে তিনি বেশ মনোযোগী, তার প্রমাণ মিলেছে সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে। সাফল্যের সঙ্গেই মাধ্যমিকের গণ্ডি পার করেছেন এই উদীয়মান অভিনেত্রী।
অভিনয় জগতে অতিথির আসার গল্পটা বেশ চমকপ্রদ। পরিবারের বড় বোনের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের প্রস্তাব থেকে সুযোগের সূচনা। বোনের অনাগ্রহ থাকলেও, ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর প্রবল আগ্রহে অতিথি অডিশন দেন এবং নির্বাচিত হন। প্রখ্যাত নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরীর সেই বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিং সেটেই প্রথম বড়মাপের তারকা জয়া আহসানের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান তিনি। সেদিনের সেই স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অতিথি জানান, প্রচন্ড রোদেও জয়া আহসান তাকে যত্ন নিয়েছিলেন এবং তার নাম নিয়েও প্রশংসা করেছিলেন। সেই বিজ্ঞাপনই যেন তার অভিনয়ের দুয়ার খুলে দিয়েছিল।
এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। হানিফ পালোয়ানের নির্দেশনায় জাহিদ হাসানের সঙ্গে অভিনয় থেকে শুরু করে শিহাব শাহীনের আলোচিত ওয়েব সিরিজ ‘১৪ই আগস্ট’, মোশাররফ করিমের সঙ্গে ‘দ্য ব্রোকার’, কিংবা আফরান নিশো ও তাসনিয়া ফারিণের বিপরীতে ‘ভাঙা পুতুল’—প্রতিটি কাজেই নিজের অভিনয়ের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন অতিথি। শিশুশিল্পী হিসেবে শুরু করা ক্যারিয়ার আজ তাকে এক পূর্ণাঙ্গ অভিনেত্রীর অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
তবে মোস্তফা কামাল রাজের ‘এটা আমাদেরই গল্প’ তার ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক। নির্মাতা রাজ যখন তাকে এই চরিত্রের প্রস্তাব দেন, বলেছিলেন এটি এমন একটি কাজ যা দর্শক আজীবন মনে রাখবে। বাস্তবেও হয়েছে তাই। এখন বাবা-মায়ের সঙ্গে বাইরে বের হলে অচেনা মানুষ যখন তাকে ‘ফারহানা’ বলে ডাকে, তখন তিনি বুঝতে পারেন তার কাজের জনপ্রিয়তা ঠিক কতখানি। পর্দায় ফারহানা অনেক বেশি চালাক হলেও, বাস্তব জীবনে অতিথি বেশ কিছুটা শান্ত প্রকৃতির। তবে চরিত্রটির লজিকের সঙ্গে নিজের অনেক মিল খুঁজে পান তিনি।
অভিনয় জীবনের এই পথচলায় পরিবারের সমর্থন অতিথির কাছে বড় শক্তি। তার মা প্রতিটি শুটিংয়ে ছায়ার মতো পাশে থাকেন, বাবা তার কাজের সবচেয়ে বড় সমালোচক হয়ে পরামর্শ দেন, আর দুই বোন তদারকি করেন তার পুরো কাজের জগৎ। পড়াশোনার ক্ষেত্রেও কোনো আপস করতে রাজি নন তিনি। ভবিষ্যতে তিনি আনিসুল হকের লেখা ও মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পরিচালনায় সেই আইকনিক ধারাবাহিক ‘সিক্সটি নাইন’-এর ‘দীপা’ চরিত্রের মতো প্রাণবন্ত ও শক্তিশালী কোনো চরিত্রে অভিনয়ের স্বপ্ন দেখেন। ক্যামেরার বাইরের জীবনে বিশ্ব চলচ্চিত্রের প্রতি অনুরাগী অতিথি অবসর কাটাতে পছন্দ করেন নিজের প্রিয় পোষা বিড়ালের সঙ্গে সময় কাটিয়ে। অভিনয়ের ঝলমলে আলোয় নিজেকে রাঙিয়ে তোলা এই তরুণী এখন নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করতে অপেক্ষায় আছেন নতুন কোনো চ্যালেঞ্জিং গল্পের।
