Advertisement

সফলতার রহস্য ও নাট্য নির্মাণের নেপথ্য গল্প শোনালেন নির্মাতা মহিন খান

চলচ্চিত্র ও নাট্যাঙ্গনের বর্তমান সময়ে সাফল্যের এক অনন্য সমীকরণ তৈরি করেছেন নির্মাতা মহিন খান। ক্যারিয়ারের অর্ধযুগে প্রায় আড়াই শ নাটক নির্মাণ করে তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন সাফল্যের এক অনন্য উচ্চতায়। শুধু সংখ্যায় নয়, গুণগত মানেও তার কাজ দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। তার নির্মিত ৯০টিরও বেশি নাটক ইউটিউবে কোটি ভিউয়ের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এমনকি বাংলাদেশের সর্বাধিক দেখা শীর্ষ ১০টি নাটকের মধ্যে ৫টিই এই দক্ষ নির্মাতার হাত দিয়ে তৈরি। এই অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্যে কী রহস্য লুকিয়ে আছে, তা নিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি।

মহিন খান অকপটে জানালেন, তার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো দর্শকদের ভালোবাসা এবং তাদের পছন্দ-অপছন্দ বুঝতে পারার ক্ষমতা। ভালো গল্পের ওপর বরাবরই জোর দেন তিনি। তার মতে, বড় তারকা কিংবা ঝকঝকে উপস্থাপনার চেয়েও গল্পের গভীরতা দর্শককে বেশি টানে। নিজের চারপাশের অতি পরিচিত জীবন এবং মানুষের নিত্যদিনের আলোচনা থেকেই তিনি গল্পের রসদ খুঁজে নেন। চিত্রনাট্য লেখার সময় নিজেকে দর্শকের জায়গায় বসিয়ে তিনি বিচার করেন, সেই গল্প তাকে কতটা স্পর্শ করতে পারছে। যখন নিজের মন থেকেই তৃপ্তি পাওয়া যায়, তখনই তিনি তা নির্মাণের জন্য চূড়ান্ত করেন।

বিজ্ঞাপন

ইউটিউব ভিউ বা গাণিতিক হিসাবের চেয়ে গল্পের গাঁথুনিকে তিনি সবসময় প্রাধান্য দেন। তবে বর্তমান সময়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আধিপত্য স্বীকার করে তিনি জানালেন, ভিউ এখন একটি বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে এবং গল্পের প্রয়োজনে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়াটা এখন সময়ের দাবি। তার নাটকে জনপ্রিয় জুটি নিলয় আলমগীর ও জান্নাতুল সুমাইয়া হিমির আধিক্য নিয়ে রয়েছে বিশেষ রসায়ন। প্রায় ৫০টিরও বেশি নাটকে তাদের নিয়ে কাজ করার কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, তাদের সাথে বোঝাপড়া এবং দর্শকরা এই জুটিকে পর্দায় দেখতে পছন্দ করেন বলেই তারা তার প্রথম পছন্দ হিসেবে থাকেন।

নির্মাতা হিসেবে মহিন খানের যাত্রা শুরু হয়েছিল মূলত অভিনয়ের নেশা থেকে। মঞ্চ অভিনয়ের সূত্র ধরেই পরিচয় হয় নির্মাতা শামীম জামানের সাথে। তার পরামর্শেই সহকারী পরিচালক হিসেবে যাত্রা শুরু এবং সেই থেকেই নির্মাণের প্রেমে পড়ে যাওয়া। শুরুর দিকে সংগ্রাম ও বঞ্চনার তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকলেও সেসব স্মৃতিকে তিনি অনুপ্রেরণা হিসেবেই নিয়েছেন। শুটিং সেটে তারকাদের অবহেলা কিংবা সহকারীর অসহায়ত্ব তাকে একসময় ব্যথিত করলেও, সেই অপমানই তাকে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে জেদ জুগিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নাট্যাঙ্গনের গত এগারো বছরের বিবর্তন নিয়ে বেশ আশাবাদী এই নির্মাতা। তার মতে, বাজেট বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তির উৎকর্ষের ফলে এখন কাজের মান অনেক বেড়েছে। শুটিংয়ের পরিধি বেড়েছে দেশের প্রান্তরে। আজ তিনি গর্বের সাথে উল্লেখ করেন, এক সময় তিনি নিজে সহকারী পরিচালক হিসেবে পারিশ্রমিক না পাওয়ার কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছেন, কিন্তু বর্তমানে তার টিমের সহকারী পরিচালকরা যথাযথ সম্মানী পাচ্ছেন। সমালোচকদের প্রসঙ্গে তিনি বেশ নমনীয়। তিনি মনে করেন, সবাইকে তুষ্ট করা অসম্ভব, তাই নেতিবাচক মন্তব্যকে গায়ে না মেখে কাজ দিয়ে সমালোচকদের মন জয় করাই তার মূল লক্ষ্য। তার এই নিরন্তর পথচলা ও সৃজনশীলতা বাংলা নাট্যাঙ্গনকে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করে চলেছে।

0%
0%
0%
0%