Advertisement

পশ্চিমা বাজারে রপ্তানি হ্রাস ও জ্বালানি সংকটে চট্টগ্রামে অর্ধশত পোশাক কারখানা বন্ধ কর্মহীন সাত হাজার শ্রমিক

চট্টগ্রামের পোশাকশিল্প খাতে নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের চাহিদা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাওয়ায় চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন এই অঞ্চলের উদ্যোক্তারা। কার্যাদেশ বা অর্ডারের অভাবে নগরীর পাহাড়তলীসহ বিভিন্ন এলাকার ছোট-বড় অন্তত ৫০টি কারখানা ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে হাজারো শ্রমিকের জীবিকায়।

ইউরোস্ট্যাটের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি ১৬.৪৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একই চিত্র দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও, যেখানে রপ্তানি কমেছে ৫.৭৫ শতাংশ। বিশ্ববাজারে চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য এবং ভিয়েতনাম ও ভারতের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সুযোগ নিতে না পারায় বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

কারখানা বন্ধের ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন সাত হাজারের বেশি শ্রমিক। পাহাড়তলী এলাকার আরটিটি টেক্সটাইল কারখানার সাবেক অপারেটর শিরিনা বেগম জানান, অভাবের তাড়নায় এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। ওমামা ফ্যাশন ও শান গার্মেন্টসের মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শত শত শ্রমিক এখন বেকারত্বের দংশনে দিশাহারা। অনেক শ্রমিক পাওনাদি না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন, আবার কেউ কেউ বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশায় যুক্ত হয়েছেন।

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের চট্টগ্রাম জেলার যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান জানান, শ্রমিকদের বিনা নোটিসে চাকরিচ্যুত করা এবং আইনানুযায়ী পাওনা পরিশোধ না করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কারখানা মালিকরা বৈশ্বিক সংকট, জ্বালানি ও কাঁচামালের অভাবকে দায়ী করলেও শ্রমিকরা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেও তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শ্রম অধিকার রক্ষায় মালিকপক্ষের উদাসীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

বিজ্ঞাপন

বিজিএমইএ এবং শিল্প পুলিশের তথ্যমতে, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা শিল্পের চাকা সচল রাখা অসম্ভব করে তুলেছে। বন্দর ও কাস্টমসের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দীর্ঘ লিড টাইম আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের অন্য দেশের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, দ্রুত জ্বালানি সংকটের সমাধান এবং নতুন বিনিয়োগ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে না পারলে বেকারত্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এ পরিস্থিতি উত্তরণে সরকারি ও উদ্যোক্তা পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

0%
0%
0%
0%