জয়পুরহাটে আলুর দরপতনে দিশেহারা কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বস্তাপ্রতি লোকসান চারশ ষাট টাকা

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় আলুর আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় এবং বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। হিমাগারে সংরক্ষিত আলু বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, মূলধন ফেরানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান বাজারে প্রতিটি ৬০ কেজির বস্তায় গড়ে প্রায় ৪৬০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের।
হিমাগারের গেটে বর্তমানে ৬০ কেজির প্রতি বস্তা আলু ৯২০ থেকে ৯৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ উৎপাদন, পরিবহন, বাছাই ও হিমাগার ভাড়াসহ প্রতিটি বস্তার পেছনে কৃষকের খরচ হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। মৌসুমের এই সময়ে আমন ধান চাষের প্রস্তুতির জন্য অর্থের প্রয়োজন থাকলেও হিমাগারে আলু আটকে থাকায় কৃষকদের আর্থিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।
তেলিহার গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন, আকলাপাড়া গ্রামের আব্দুল হামিদ ও নয়াপাড়ার সিরাজুল ইসলামের মতো অনেক কৃষক জানিয়েছেন, বাজার নিম্নমুখী হওয়ায় তাদের মূলধন হারানোর দুশ্চিন্তা বেড়েছে। তারা জানান, হিমাগারে রাখা আলু বের করলেই লোকসানের বোঝা টানতে হচ্ছে, অথচ ধান চাষের খরচ মেটাতে নগদ অর্থের অভাবে তারা অসহায় হয়ে পড়েছেন।
ব্যবসায়ীরাও একই পরিস্থিতির শিকার হয়ে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার উপক্রম করেছেন। পুনট হাটের ব্যবসায়ী মিঠু ফকির ও সাইদুর রহমান জানান, বিভিন্ন বাজারে আলু পাঠিয়ে ট্রাক প্রতি চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। ঋণ নিয়ে আলু মজুত করা ব্যবসায়ীরা এখন সেই ঋণ পরিশোধের অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জেলায় ৩৯ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। জেলার ২২টি হিমাগারে প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার ৯৮২ টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছিল, যার একটি বড় অংশ এখনও অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে। এম ইসরাত হিমাগার ও সালামিন কোল্ড স্টোরেজের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ আলু খালাস করা নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম সাদিকুল ইসলাম জানান, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণেই মূলত আলুর বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং চাষিরা যাতে তাদের উৎপাদিত পণ্যের যৌক্তিক দাম পান, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করে কাজ করছে।
