রাজনীতি ও আরবানা বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়

রাজনীতির ময়দানে পা রেখেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন জনপ্রিয় চিত্রতারকা তথা হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি চুঁচুড়ায় আয়োজিত ভারতমাতা পূজায় অংশ নিয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও দলবদলের নেপথ্যে থাকা অকথিত সব সত্যি নিয়ে সরব হলেন তিনি। দীর্ঘদিনের অভিনয় জীবন পেরিয়ে রাজনীতির জটিল সমীকরণে নাম লেখানো এই তারকা কোনো রাখঢাক না রেখেই বুঝিয়ে দিলেন, ক্ষমতার অন্দরমহলে টিকে থাকা কতটা চ্যালেঞ্জিং।
দলবদলের প্রশ্নে রচনা অত্যন্ত স্পষ্টভাষী। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন, রাজনৈতিক জয়-পরাজয়ই তার এই সিদ্ধান্তের মূল চালিকাশক্তি। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, উন্নয়নই তার একমাত্র লক্ষ্য। তার কথায়, রাজ্যে উন্নয়নের চাকা সচল রাখতে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। তৃণমূল সরকারে থাকাকালীন কেন্দ্রীয় বরাদ্দ না পাওয়া এবং রাজ্যের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কাজ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ার কথা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, উন্নয়নের স্বার্থেই তিনি ভিন্ন পথে পা বাড়িয়েছেন এবং বর্তমানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কর্মতৎপরতাকে তিনি ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখছেন। দলের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের জন্য কাজ করাই তার প্রধান ব্রত বলে জানিয়েছেন এই সাংসদ।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কলকাতা তথা রাজ্যের অন্যতম বিলাসবহুল আবাসন ‘আরবানা’ নিয়ে নিজের মন্তব্য প্রসঙ্গেও মুখ খুলেছেন রচনা। আগে ‘আরবানায় থাকতে যোগ্যতা লাগে’—এমন মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। সেই প্রসঙ্গ টেনে কিছুটা আক্ষেপের সুরেই তিনি জানান, ওই মন্তব্যটি না করলেই হয়তো ভালো হতো। একজন সাংসদ যখন ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন, তখনই তিনি পাল্টা উত্তর দিয়েছিলেন। মধ্যবিত্ত পরিবারে সংগ্রাম করে উঠে আসা রচনা জানিয়েছেন, বাবা-মাকে ভালো রাখার স্বপ্ন পূরণ করতেই তিনি কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে আরবানায় ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। নিজের এই লড়াইয়ের গল্প আগে কখনও প্রকাশ করেননি বলেও জানান তিনি।
রাজনীতিতে এসে রচনার এই অনমনীয় ও বিস্ফোরক মন্তব্যে ফের সরগরম বঙ্গ রাজনীতি। গ্ল্যামার দুনিয়া থেকে রাজনীতির কুরুক্ষেত্রে আসা এই সাংসদ যে নিজের মত প্রকাশে কোনো আপস করতে রাজি নন, তা আবারও প্রমাণিত হলো। তার প্রতিটি পদক্ষেপ ও প্রতিটি শব্দ যে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, তা চুঁচুড়ার এই ঘটনার পর আবারও স্পষ্ট হয়ে গেল।
